Loading Now

অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আবদ্ধ নিত্যপণ্যের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর নতুন করে সব শুরু হলেও এখনো চলছে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। নিত্যপণ্যা সহ সবকিছুর মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। ভরা মৌসুমে সবজি, আলু ও চালের অস্বাভাবিক দাম। ডিম, পেঁয়াজ, মুরগি আলুসহ নিত্যপণ্যের দামে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। কোথাও যেন স্বস্তির অবকাশ নেই। আছে শুধু নতুন করে বেঁচে থাকার আকুতি। হয়ত সুদিন ফিরবে একদিন, থামবে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। ২০২৩ সাল থেকে নিত্যপণ্যের বাজার চরম অস্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে তা ভয়াবহ আকার ধারন করছে। নিয়ন্ত্রণ কারীদের বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সিন্ডিকেটর মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার বরিশালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। ভরা মৌসুমেও শীতকালীন সবজি বিক্রি হচ্ছে লাগামহীন দামে। ছোট বড় ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম এখনো ১০০ থেকে ৮০০ টাকা। স্থানভেদে দাম কম-বেশি হলেও গড়ে বাজারদর একই। ৬০-১০০ টাকার নিচে লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। সিমের কেজি ১২০ থেকে ১৫০। এদিকে বাজারে আলুর দাম আরও বেড়েছে। গত সপ্তাহে দুই দফা বেড়ে হয়েছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা, যা আগে ছিল ৭০ টাকা। সব ধরনের মুরগি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামা করছে।

নতুন আলু নামলে দাম কিছুটা কমবে বলা হলেও এখন নতুন পুরাতন আলু প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে। নতুন-পুরাতন আলু দুটিই এখন ৭০-৮০ টাকা কেজি। যা বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতি বছর ভরা মৌসুমে নতুন আলু ২০-৩০ টাকায় নেমে এলেও এ বছর দাম কমার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। লালশাকের আঁটি ৩০-৪০ টাকা, লাউশাক আঁটি ৬০-৭০ টাকা, মুলাশাক ২৫-৩০ টাকা, পালংশাক ২০-৩০ টাকা, কলমিশাক ১৫-২০ টাকা আঁটি বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। শীতের মৌসুমে উৎপাদিত টমেটো এখনো বিক্রি করা হচ্ছে ১৫০-১৭০ টাকা কেজি দরে। ক্রেতারা বলছেন, শীতে সব সময় বাজারে সবজির দাম একটু কম থাকলেও এ বছর যেন লাগামহীন বাজারদরে কিনতে হচ্ছে তাদের।

শীতের শুরু থেকে এখনো কোনো শাকসবজির দাম কমতে দেখা যায়নি। উৎপাদন পর্যাপ্ত তবুও দাম কমার যেন কোনো লক্ষণ নেই। অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য যেন কাটছেই না। বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যেরকম দামে শাকসবজি আসে তারা সেরকম দামেই বিক্রি করেন। এ বছর এলাকা থেকেই দাম একটু চড়া।
আলুর দামের বিষয়ে পুরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলুর মৌসুম এখন একবারে শেষদিকে। প্রতি বছর এ সময় দাম বাড়ে। তবে এ বছর শুরু থেকে আলু চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এরপর এখন বেড়ে আরও অস্থিতিশীল হয়েছে।

আলম হোসেন নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, নতুন আলু না আসা পর্যন্ত দাম কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা,খাসির মাংসের কেজি এক হাজার ১৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে শীতের মৌসুমের মাছের সরবরাহ বাড়লেও দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে।

বাজার করতে আসা নীপা বেগম জানান, সবকিছুর দাম বাড়লেও বাড়ছে না কেবল মানুষের আয়। এ অবস্থায় শহুরে জীবনে টিকে থাকা দায় হয়েছে পরেছে। ভালো নেই মধ্য আয়ের কর্মজীবী মানুষ। এরাই এখন সবচে দুঃসময়ে। মানুষের দুঃসময়ে শুধু খাদ্যদ্রব্য নয়, জীবন-যাপনে প্রয়োজনীয় সবকিছুর দামই হু হু করে বাড়ছে। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্য আয়ের মানুষেরও। তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে কবে? সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে কবে? স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলবে সাধারণ মানুষ কবে, এটাই দেখার বিষয়।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED