অনেক টাকা আয় করলেও শেষে কিছুই থাকে না: শিল্পীদের তামান্না
বিনোদন ডেক্স ।।
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া দুই দশকের বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দায় সক্রিয় আছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে অভিনয়জীবন শুরু করা এ অভিনেত্রী আজ একজন বড় তারকা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। বিগ বাজেটের সিনেমা, বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড— সব মিলিয়ে আর্থিকভাবে সফল তিনি। অভিনয়জগতে নিয়মিত অনেক অর্থ উপার্জন করলেও সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে একসময় সব হারানোর ঝুঁকি থেকে যায় বলে জানিয়েছেন তামান্না ভাটিয়া।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে অভিনেত্রী বলেন, অভিনয় পেশা বাইরে থেকে যতটা স্থিতিশীল মনে হয়, ভেতরে ততটাই অনিশ্চিত। শিল্পীরা ধারাবাহিকভাবে অনেক টাকা উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু যদি ঠিক সময়ে সঞ্চয় না করেন বা সেই অর্থ বাড়ানোর উপায় না খোঁজেন, একসময় দেখবেন হাতে তেমন কিছুই নেই।
চলচ্চিত্রশিল্পে সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে সময়, দর্শক-রুচি এবং সুযোগের ওপর। একসময়ের জনপ্রিয়তা পরবর্তী সময়ে কমে যেতে পারে। তাই অভিনয়ের বাইরে বিকল্প আয়ের পথ ও বিনিয়োগ কৌশল তৈরি করা জরুরি— এমনটাই মনে করেন তামান্না ভাটিয়া।
অভিনেত্রীর এ মন্তব্য শুধু সহকর্মী অভিনেতাদের জন্য নয়, নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। দ্রুত সাফল্য ও মোটা পারিশ্রমিকের প্রলোভনে ভেসে না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা গড়ে তোলার পরামর্শই দিয়েছেন তামান্না ভাটিয়া।
অভিনয়জগৎ আলো ঝলমলে কিন্তু তার পেছনে রয়েছে কঠিন বাস্তবতা। সে কথাই অকপটে তুলে ধরে তামান্না ভাটিয়া বলেন, খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু সচেতন বিনিয়োগই হতে পারে টেকসই নিরাপত্তার ভিত্তি। তিনি বলেন, একটা ভারসাম্যপূর্ণ পরিকল্পনা থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ শুধু উপার্জন নয়, সেই অর্থকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করাই দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার চাবিকাঠি।
বাবার দূরদর্শিতা ও শুরুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তামান্না ভাটিয়া বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আর্থিক বিষয়গুলো দেখভাল করতেন তার বাবা। কম বয়সে উপার্জনের জগতে প্রবেশ করলে সঠিক দিকনির্দেশনা খুব জরুরি। তিনি বলেন, আমার বাবা তখন আমার আর্থিক বিষয়গুলো সামলেছেন। এখনো পরামর্শ দেন। ছোট বয়সে যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছি।
অভিনেত্রী বলেন, আজ তার বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে রয়েছে রিয়েল এস্টেট, গহনার ব্যবসা এবং অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের সমন্বয়।
সম্প্রতি তামান্না ভাটিয়ার নিজস্ব ফাইন জুয়েলারি ব্র্যান্ডও চালু করেছেন। তিনি বলেন, আয় যতই হোক, তা বাড়ানোর জন্য পরিকল্পিত বিনিয়োগ না থাকলে ভবিষ্যৎ নিরাপদ নয়।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় সিনেমা জগতে এর আগে একাধিক তারকার আর্থিক সংকটের উদাহরণ রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে ব্যবসায়িক লোকসানে দেউলিয়ার মুখে পড়েছিলেন বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। পরে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি দেশের অন্যতম ধনী অভিনেতায় পরিণত হয়েছেন। একইভাবে ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও আর্থিক দুরবস্থার মুখোমুখি হয়েছিলেন জ্যাকি শ্রফ।
আরও আগে হিন্দি ছবির স্বর্ণযুগের জনপ্রিয় মুখ ভগবান দাদা ও ভারত ভূষণ জীবনের শেষভাগে আর্থিক কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। এ উদাহরণগুলো দেখিয়ে তামান্না বোঝাতে চেয়েছেন— তারকাখ্যাতি ও উচ্চ আয় সবসময় স্থায়ী সুরক্ষা দিতে পারে না।
তথ্য সূত্র : যুগান্তর,,,,



Post Comment