আভাসের আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
আভাস বাস্তবায়নে “আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সুইজারল্যান্ড দূতাবাস এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (GAC)-এর সহায়তায় নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (CE F) প্রোগ্রামের অধীমনে EngageNow প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আজ রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল, প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কোতয়ালি মডেল থানার নারী ও শিশু ডেক্স অফিসারনরুমা পারভীন, ইউপি নারী সদস্য পারুল বেগম,মানবাধিকার নারী পরিষদ এর সদস্য জায়েদা বেগম ও ইয়ুথ গার্লস গ্রুপ এর প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে নারীর অধিকার, বাল্য বিয়ের আইনত শাস্তি ও আইনগত সুরক্ষা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান এবং সমাজে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল তার বক্তব্যে তরুণদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুণদের ইতিবাচক চিন্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে তরুণ-তরুণীসহ নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণকারীরা একটি সমতাভিত্তিক, সহিংসতামুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তাদের ভাবনা, অঙ্গীকার ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তরুণদের সচেতনতা, নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “তারুণ্যের ভাবনা” দেয়াল লিখনি ,যেখানে অংশগ্রহণকারীরা তাদের ভাবনা, প্রতিশ্রুতি ও বার্তা লিখে নারীর অধিকার ও সমতার পক্ষে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এই দেয়ালে তরুণদের লেখনীতে উঠে আসে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার বার্তা। অনেকেই লিখেছেন—সমতার বাংলাদেশ গড়তে তরুণদেরই হতে হবে পরিবর্তনের অগ্রদূত।
ইয়ুথ গার্লস গ্রুপ এর সদস্য বন্যা বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল একটি প্রতীকী দিবস নয়; এটি নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান। নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, টেকসই ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, তরুণদের এই ভাবনা ও অঙ্গীকার ভবিষ্যতে নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং একটি সমতাভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।



Post Comment