ইলিশ রক্ষা অভিযানের ট্রলারে ফের জেলেদের হামলা, আহত-২০
মুলাদী প্রতিবেদক ॥
মুলাদীতে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের ট্রলারে ফের হামলা চালিয়েছে জেলেরা। এতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা ও পুলিশসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার জয়ন্তী নদীর গাছুয়া ইউনিয়নের বাঘাবাড়ি পাকা রাস্তার মাথা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার বাদী হয়ে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা জেলেদের বিরুদ্ধে মুলাদী থানায় একটি মামলা করেছেন। এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে আড়িয়ালখাঁ নদের নাজিরপুর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় হামলা করে ৫জনকে আহত করেছিলো জেলেরা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা গেছে, শনিবার রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশারের নেতৃত্বে আড়িয়ালখাঁ ও জয়ন্তী নদীতে অভিযান চালায় প্রশাসন। অভিযানের ট্রলারটি আড়িয়ালখাঁ নদ ঘুরে জয়ন্তী নদীর গাছুয়া ইউনিয়নের ডুমুরীতলা বাঘাবাড়ি এলাকায় পৌঁছলে দুই শতাধিক জেলে অতর্কিত হামলা চালায়। জেলেরা কাঁদামাটি, ইটপাটকেল ছুড়ে অভিযানে থাকা কর্মকর্তা ও পুলিশকে নাস্তানাবুদ করে মারাত্মক আহত করে।
জেলেদের হামলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার, মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, বোয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনির হোসেন, ফাঁড়ির ৮ পুলিশ সদস্য, ট্রলারচালক ও সহযোগীসহ কমপক্ষে ২০জন আহত হয়। আহতদের ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রাতেই মুলাদী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরাগ সাহা জানান, সরকারের নির্দেশনায় গত ১৩ অক্টোবর থেকে নিয়মিত ইলিশ রক্ষা অভিযান পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার রাতে জেলেদের অতির্কিত হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ইলিশ রক্ষা অভিযানে হামলার ঘটনা অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Post Comment