Loading Now

একে স্কুল: বছরে বাবুর পেটে গেছে ৩০ লক্ষ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

 

নগরীর আসমত আলী খান ইনিস্টিটিউট (এ কে স্কুল) এর সভাপতির চেয়ারে বসে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২০২০ সালের ২৮ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বাবু। মাঝখানে ৫ মাসের জন্য এই পদে আসীন ছিলেন নুপুর নাহার। ওই ৫ মাস বাদে ৩ মেয়াদে বলতে গেলে একটানা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ের আয় ব্যয় নিয়ে করা একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাবুর অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি। বাবুর অর্থ আত্মসাতের মূল অস্ত্র ছিলো বিল ভাউচার।

 

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে ইচ্ছেমত বিল-ভাউচার করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বাবু। যা অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ নিরীক্ষা মন্তব্যে বলা হয়েছে ‘একই বিদ্যালয়ে ব্যবহৃত ভাউচার বিদ্যালয়ের নামে ছাপানো হয়েছে। কিন্তু তাতে ক্রমিক নং যুক্ত করা হয়। এছাড়া ভাউচারে প্রাপকের প্রাপ্তি স্বীকার পত্র থাকে। কিন্তু বিদ্যালয়ে ব্যবহৃত ভাউচারে এসব কিছুই ছিলো না।

মন্তব্যে আরো বলা হয় ‘একই ভাউচারে একাধিক খাতের খরচ দেখানো হয়েছে। এরকম উদাহরণ অনেক। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মন্তব্যে আরো বলা হয়েছে ‘যে খরচের খাত বড় বলে মনে হেেয়ছে সেই খাতে সম্পূর্ন খরচ দেখানো হয়েছে। ফলে বড় বড় খাতে খরচের পরিমান বিবরনীতে বেশী খরচ দেখানো হয়েছে। অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে ‘বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে টাকা তুলে সরাসরি তা সভাপতির হাতে দেওয়া হতো। তিনি ইচ্ছেমত খরচ করে বিল ভাউচার তৈরী করতেন।

২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরে বাবুর অর্থ আত্মসাতের চিত্র তুলে ধরা হলো-
এই অর্থ বছরে স্কুলের জমির খাজনা দেওয়া বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। যা গত বছর ছিলো মাত্র ৩২ হাজার টাকা। এক বছরে খাজনা বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ৭ লাখ টাকারও বেশী।

স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নিয়ে চলমান মামলায় খরচ দেখানো হয় ২ লাখ ১২ হাজার টাকা,আসবাপত্র ক্রয় করা হয় পৌনে ৬ লাখ টাকার,ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয় বাবদ খরচ ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা,বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরীতে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও ব্যাংক চার্জ খরচ দেখানো হয়েছে এক লাখ টাকা। এছাড়া বিদ্যালয়ের সাধারন খরচ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা,পেপার ইন্টারনেট,অফিস খরচ,সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ আরো অন্তত ১৫ টি খাতে খরচ দেখানো হয়েছে অসংগতিপূর্ণ।

এই ১১ মাসে বিদ্যালয়ের মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। যা বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে অবাস্তব। তারা বলছেন ‘ এই ১১ মাসে যে খরচ দেখানো হয়েছে তা থেকে কম পক্ষে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সভাপতি বাবু। পরবর্তী পর্বে থাকছে পরবর্তী বছরের অডিট রিপোর্টের বিবরণী।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED