Loading Now

‘এখন তোরে যদি আমি কোপাই, ধরবে কেডা’, পটুয়াখালী ছাত্রলীগ কর্মীর হুমকি!

বাউফল প্রতিনিধি ।।

পটুয়াখালীর বাউফলে বাকিতে সিগারেট দিতে অস্বীকার করায় এক চা দোকানিকে মারধর এবং পরে থানায় অভিযোগ দেওয়ায় ফোনে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সোহেল আহমেদ ওরফে ‘মচকি সোহেল’ নিজেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী এবং সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের ক্যাডার হিসেবে পরিচয় দিয়ে এই হুমকি দেন। হুমকির একটি কল রেকর্ড ইতিমধ্যে ফাঁস হয়েছে, যেখানে সোহেলকে দম্ভোক্তি করে বলতে শোনা যায়, ‘এখন তোরে যদি আমি কোপাই, ধরবে কেডা?’

বুধবার (৪ মার্চ) উপজেলার কালাইয়া বাণিজ্যিক বন্দরের বাজার রোডে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী দোকানি ওলি শিকদার (২৬) জানান, বুধবার সকালে সোহেল দোকানে এসে বাকিতে সিগারেট চান। ওলি বাকিতে বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় সোহেল তাকে মারধর করেন। পরে বাজার সমিতির পরামর্শে ওলি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেল তাকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ওই কল রেকর্ডে শোনা যায়, সোহেল বলছেন, ‘আমি বাকি খাব কি না, তুই না জেনে বললি কেন? তাই তোকে একটা থাপ্পড় দিছি। তুই বাজারের কাউকে বিচার না দিয়ে মামলা করলি কেন? এখন তোরে যদি আমি কোপাই, ধরবে কেডা?’

ভুক্তভোগী ওলি শিকদার বর্তমানে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি জানান, সোহেল এলাকায় সাবেক বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছেন। ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সোহেলের ভয়ে বাজারের অনেক ব্যবসায়ী মুখ খুলতে সাহস পান না। ওলি বলেন, “আমি সামান্য একজন দোকানদার। থানায় বিচার চাইতে যাওয়াই কি আমার অপরাধ? প্রকাশ্যে কুপিয়ে মারার কথা বলার পর আমি এখন ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছি। আমি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চাই।”

কালাইয়া বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সোহেল আহমেদ প্রায়ই বিভিন্ন দোকানে বাকি খেয়ে টাকা দেন না। কেউ টাকা চাইলে তাকে মারধর বা হেনস্তা করা সোহেলের নিত্যদিনের কাজ। গত বুধবারের ঘটনার পর বাজারের শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং ছোট ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা অভিযুক্ত সোহেলের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদি এই ধরণের ক্যাডারদের এখনই থামানো না যায়, তবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল আহমেদের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সেটি রিসিভ করেননি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বাউফল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। হুমকির অডিও রেকর্ডটি ইতিমধ্যে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে এবং অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মারধরের অভিযোগ পেয়েছি এবং হুমকির বিষয়টিও আমাদের কানে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ ভুক্তভোগী দোকানি ওলি শিকদারের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED