এবছরই বরিশালে চালু হচ্ছে ৪৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক নভোথিয়েটার!
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তারে নতুন দিগন্তের সুচনা করতে বরিশালে নির্মিতব্য নভোথিয়েটারের কাজ শতকরা ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। চারভাগে বিভক্ত এই নভোথিয়েটারের নির্মান কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। যা সর্বসাকুল্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল গতবছরের ডিসেম্বর মাসে। আশা করা হচ্ছে এবছরের ডিসেম্বরে এটি চালু করা হবে।
বরিশাল সহ দক্ষিণের মানুষের মহাকাশ জ্ঞান সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার প্রসারে নগরীর সর্বদক্ষিণে চরআইচা এলাকায় ৪৬০ কোটি টাকা ব্যায়ে নভোথিয়েটার নির্মান কাজ শুরু করা হয় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। সর্বপ্রথম প্রকল্প ব্যায় ধরা হয় ৪১২ কোটি টাকা। পরে তা আরো ৪৮ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়।
সারা বাংলাদেশের ৮ টি নভোথিয়েটার আইকনিক প্রকল্পের একটি হলো এটি। ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল বিভিন্ন দ্রব্যাদির মূল্য বৃদ্ধির করনে এর প্রকল্প ব্যায় বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ১০ একর জমির উপর নির্মিতব্য এই নভোথিয়েটারে থাকছে প্লানেটরিয়াম, অফিস ভবন, প্লাজা, ডরমেটরি, দুটি ডোম সহ ২৬ টি অবকাঠামোর কাজ। এখানে থাকছে একসাথে ১৭৫ টি গাড়ি রাখার অত্যাধুনিক পার্কিং ব্যবস্থা , ৩০৪ আসনের গ্যালারি এবং ১৭৫ আসনের অডিটোরিয়াম। কর্তৃপক্ষের আশা এবছর এটি আমজনতার জন্য উন্মুক্ত হবে।
গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলম বলেন- সারা বাংলাদেশের একটি আইকনিক প্রজেক্ট আছে সেটি হচ্ছে নভোথিয়েটার। এই প্রকল্পের একটি নভোথিয়েটার আমাদের বরিশালে কাজ চলমান রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন আইকোনিক এই প্রকল্পটি এটির প্রথম প্রকল্প মূল্য ছিল ৪১২ কোটি টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পের মূল্য বাড়িয়ে করা হয় ৪৬০ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা করছি ডিসেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে আমাদের সকল অঙ্গের কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে।
প্রকল্পের সাথে সংযুক্তরা জানান, কাজ বিলম্বের কারনে তাদেরকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এর নির্মান কাজ শুরু থেকে বাধাগ্রস্ত হয়। শুধু বেইজমেন্টের কাজ করতেই দুইবছর পেরিয়ে যায়। বিলম্বের কারনে শ্রমিক মজুরী থেকে শুরু করে সব কিছুতেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। প্রকল্প এর প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল বলেন-প্রজেক্টটি নদীর পাড়ে হওয়ার কারণে বর্ষার দিনে খুবই কষ্টকর ছিল। ঢালু জমি ছিল। এখানে আমাদের কাজ করতে খুবই সমস্যা। সাইট রেডি করতেই আমাদের দুইবছর চলে গেছে। এ জন্য ক্ষতিটা আসলে আমাদেরই। আমাদের প্রত্যেকটা কষ্ট বেড়ে গেছে। আমরা চাচ্ছি কাজটি দ্রুত শেষ করতে। আমাদের ইতিমধ্যে ৮০ভাগ কাজ শেষ। যত দ্রুত সম্ভব আমরা এখান থেকে কাজ করে বের হয়ে যেতে চাচ্ছি। ভেতরের কাজ শেষ, বাইরের কাজ চলমান। আমাদের প্রতিদিন ঘরে ২০০ শ্রমিক কাজ করছে।
গণপূর্ত বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান বলেন-অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছি। এখানে ১০ একর জায়গা। সাধারণ মানুষের অনেক বিল্ডিং ছিলো। প্রকল্পের সার্বিক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং সঞ্চালনের কাজ ৯০ ভাগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
একই বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন বলেন-আমাদের প্রজেক্টের ইলেকট্রিক কাজের ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আমাদের সাব স্টেশন ইকুইপমেন্ট সব আমাদের সাইটে আছে। ফায়ারের যত ভেতরকার কাজ আছে সব কমপ্লিট হয়েছে। আশা করি একমাসের মধ্যে বিদ্যুৎ কানেকশন চালু দিয়ে ইকুইপমেন্ট কমিশনিং করে হস্তান্তরের জন্য রেডি করতে পারব।
শুধু মহাকাশ গবেষনা বা অনুসন্ধান নয়, এই নভোথিয়েটারকে শিশুদের চিত্র বিনোদনের কেন্দ্র সহ একটি টোটাল বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে মহাকাশ বিজ্ঞান ভিত্তিক স্থাপনা সহ রাখা হয়েছে ৬টি শিশু পার্ক, ৬ টি চোখ ধাধানো ভাস্কর্য এবং অত্যাধিনিক শিশু রাইড।
শিক্ষাবিদদের মতে বরিশালের নভোথিয়েটার চালু হলে তা দখিনের মানুষের কাছে মহাকাশ গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম বলেন- বরিশাল মেরিন একাডেমির পাশে নবথিয়েটারের যে কাজ চলমান রয়েছে আমরা আশা করছি এটি দ্রুত শেষ হবে। নভোথিয়েটারের অত্যাধুনিক যে যন্ত্রপাতি আছে সেই যন্ত্রপাতির সাহায্যে মহাকাশ গবেষণার একটা দ্বার উন্মোচন হবে। আমাদের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গুলো রয়েছে সেখানকার শিক্ষার্থীরাও এখানে যে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা আছে বিশেষ করে অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ আছে তার সাহাজ্যে বিজ্ঞানমনস্ক একটি জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।



Post Comment