Loading Now

কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ বাজার দর! সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুল

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর মুরগি ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। আজ পাঁচদিন পেরোলেও বাজারে কেউই মানছে না সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম। ফলে এই দুই পণ্য নিয়ে সরকারি নির্দেশনা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের কর্তা-ব্যক্তিরা ‘অফিসে বসে’ একটা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যেখানে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

এছাড়া পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরেই চড়া। আর আলু ও পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে তারও দুই সপ্তাহ আগে। তবে এসবের প্রভাব নেই বাজারে। তাতে অসন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ।

পোট রোড বাজারে মানিক হোসেন নামের একজন ক্রেতা বলেন, আগেও বাজারে পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়া হতো, যা কার্যকর হতো না। তখন রাজনৈতিক সরকার ছিল, নানা কারণ ছিল। কিন্তু এখন ভেবেছিলাম কিছুটা পরিবর্তন হবে। কিন্তু যে লাউ সেই কদু। নতুন সরকার কিছু পদক্ষেপ নিলেও এর সুফল আমরা পাচ্ছি না।

বিক্রেতারা বলছেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দর ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করে দেয়। সে হিসেবে প্রতি ডজনের দর দাঁড়ায় প্রায় ১৪৩ টাকা। যখন ডিমের দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তখন প্রতি ডজন বিক্রি হতো ১৫০-১৫৫ টাকা দরে। যা এরপর আরও বেড়ে এখন ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকা হয়েছে।

 

একই অবস্থা ব্রয়লার ও সোনালি জাতের মুরগির ক্ষেত্রেও। বাজারে যখন প্রতি কেজি ব্রয়লারের দাম ১৭০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা এবং সোনালি জাতের মুরগি ২৬০ ২৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছিল, তখন সরকার দাম বেঁধে দেয় প্রতি কেজি যথাক্রমে ১৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা ও ২৬৯ টাকা ৬৪ পয়সা। এরপর কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে এসব মুরগির দাম। এখন বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি জাতের মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৯০ টাকায়।

জানা গেছে, উৎপাদনকারী থেকে খুচরা ব্যবসায়ী কেউই মানছেন না বেঁধে দেওয়া দাম। বরং আমিষ জাতীয় খাদ্যপণ্য দুটি আগের চেয়ে বাড়তি দমে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

এদিকে, দর বাড়ার ব্যাপারে খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে একপক্ষ দোষ চাপাচ্ছেন আরেক পক্ষের ওপর। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দর নির্ধারণের আগে সরকার কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেনি। উৎপাদন না বাড়িয়ে দর নির্ধারণ করলে তা বাস্তবায়ন হবে না।

আর খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে, যে কারণে বেঁধে দেওয়া দামের মধ্যে তারা বিক্রি করতে পারছেন না।

বাজারে পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়া এবং সেটি কার্যকর না হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে গেছে। বিগত সরকারও দাম বেড়ে গেলে সরকার কিছু পণ্যের যৌক্তিক দর নির্ধারণ করে দিয়েছে, কিন্তু বাজারে তা বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি। শেষ গত মার্চে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে ২৯ পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এর কোনো সুফল আসেনি। গত বছরের এ সময়েও সরকার ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। কিন্তু তখনও তা মানা হয়নি। এখন নতুন সরকারের ক্ষেত্রেও একই রাস্তায় হাঁটছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।

 

বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর শুল্ক কমানোর পাশাপাশি বেঁধে দেওয়া ন্যূনতম দাম প্রত্যাহার করেছে ভারত সরকার। দুটি ব্যবস্থাই এরই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। কিন্তু দেশের বাজারে এখনো এর প্রভাব নেই।

 

জানতে চাইলে পিয়াজ পট্টির ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে এখনো ভারতের পেঁয়াজ ঢোকেনি। এ কারণে বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি। যা বিক্রি হচ্ছে সেটা দেশি জাতের। দেশের বিভিন্ন এলাকার মোকামে পেঁয়াজের দাম এখনো বাড়তি।

তারা আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে ভারতের পেঁয়াজ আসলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বাজারে আলুর দামও কমেনি। প্রতি কেজি আলু আগের মতো ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালীন সবজি কচুরমুখীর কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা, শসা ৬০ থেকে ১০০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শীতকালীন সবজি শিমের কেজি ২৫০ টাকা। ফুলকপির কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

পাকা টমেটোর কেজি প্রকারভেদে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং গাজর ১৬০ টাকা। লেবুর হালি ২০ থেকে ৫০ টাকা, ধনে পাতার কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাঁচা কলার হালি ৪০ টাকায় এবং মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

 

এসব বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৬৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

সরবরাহ বাড়লেও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। চাষের শিংয়ের কেজি (আকারভেদে) ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুইয়ের দাম কেজিতে বেড়ে (আকারভেদে) ৩৩০ থেকে ৫০০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকা, মৃগেল ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পোয়া মাঝারি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মলা ৫৫০ টাকা, বাতাসি টেংরা এক হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা, পাঁচমিশালি ২২০ টাকা, রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ টাকা, বাইম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, দেশি কই এক হাজার ২০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে ৮০০ টাকা এবং কাইক্ক্যা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED