Loading Now

খাল দখল করে আ’লীগ নেতা নান্নুর ভবন নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের গত ১৬ বছরে বরিশালে অসংখ্য জনগুরুত্বপূর্ণ খালসহ বিভিন্ন জলাশয় দখল হয়ে যায়। বিশেষ করে সামাজিক এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেও খাল দখল করার বিভিন্ন উদাহরণ রয়েছে। ক্ষমতার এই প্রভাব বিস্তার করে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া বিলের পোলসংলগ্ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত স্বর্ণিভর খালটির একটি অংশ দখল করেন আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু কাজী। বছর সাতেক পূর্বে তিনি সেখানে একটি ভবনও করেছেন। এই ভবন নির্মাণের ফলে খালটি সংকুচিত হয়ে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এবং চাষবাদ করতে গিয়ে পানির অভাবে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকেরা।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরিশালের চরকাউয়ার স্বনির্ভর খালের ২ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। এই খনন তৎপরতা চলমান থাকার মধ্যেই পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে স্বৈরাচারের অনুগত নান্নু কাজীর ভবনটি অপসারধণের দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাত বছর পুর্বে আওয়ামী লীগ নেতা নান্নু কাজী খালটি দখল করে ভবন নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় জনসাধারণের পক্ষ থেকে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু নান্নু কাজী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে কোনো বাধা মানেননি, এমনকি প্রশাসনের তরফ থেকে তাকে নিষেধ করা হলেও তিনি তাও শোনেননি। বরং ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে খালের একটি অংশ দখল করে সেখানেই বাড়ি নির্মাণ করেন। এতে স্থানীয় কৃষকসহ জনসাধারণ ভোগান্তির শিকার হলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলাস সাহস পাননি।

একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, নান্নু কাজী ক্ষমতা দেখাতেই খালের ওপর ভবন নির্মাণ করেছেন। গত ১৬ বছর এতে স্থানীয় কৃষকেরা দুর্ভোগে পড়লেও তার বিরুদ্ধে কেউ মুখস খোলার সাহস পর্যন্ত দেখায়নি। প্রথমে ২/৪জন প্রতিবাদ করলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে তারা চেপে গিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালা বদলের পর বিভিন্ন মহল থেকে খাল এবং জলাশয় উদ্ধারের দাবি ওঠে। বিশেষ করে এই বিষয়টির ওপর জোর দেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এরপরেই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ পরিবেশের বিপর্যয় রোধে খাল এবং জলাশয় উদ্ধারে উদ্যোগ গ্রহণ করে, যা ধীরালয়ে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে।

চরকাউয়ার একাধিক বাসিন্দা নান্নু কাজীর ভবনটি খালের ওপর থেকে অপসারণ করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি রেখেছেন। বিশেষ করে এক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED