গৃহকর্মীদের যৌন ও প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
অক্সফাম ও ইউরোপিয় ইউনিয়ন এর আর্থিক সহযোগিতায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের গৃহকর্মীদের ষান্মাসিক সভা ও যৌন ও প্রজনন বিষয়ক প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আভসের আয়োজনে আজ ২৫ মার্চ, রোজ সোমবার সকার ১০টায় আভাস ট্রেনিং সেন্টারে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরুন নাহার মুন্নি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আই এফ আইসি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জুবায়ের হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আভাস এর নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল।
সভার শুরুতে মাসিক কালিন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষন প্রদান করেন
ই ডাব্লিউ সি এস এ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী ফারজানা ফেরদৌস। প্রশিক্ষন শেষে গৃহকর্মী নারীদের অংশগ্রহনে গ্রুপ ওয়ার্ক ও প্রেসেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। মাসিককালীন পরিচ্ছন্নতায় করোনীয় এবং স্যানিটারী ন্যাপকিন ডিস্পোজাল নিয়ে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলীয় প্রেসেন্টেশন প্রদান করে৷
এরপর প্রথম ষান্মাসিক সভায় অপরাজিতা গৃহকর্মী উন্নয়ন সংঘ এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয় এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর অতিথিদের মুল্যবান বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
মো জিহাদুল ইসলাম, শ্রম কর্মকর্তা, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর – অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে গৃহকর্মীদের শ্রম আইনে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখা করেন এবং তাদের জন্য শ্রম আইনের সুযোগ সুবিধা আলোচনা করেন। আইএফআইসি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো জোবায়ের হোসেন গৃহকর্মী নারীদের জীবনে সঞ্চয়ের প্রয়োজনীয়তা ও ১০টাকার ব্যাংক একাউন্ট এর বিষয়ে আলোচনা করে। ব্যাংকের ১৫০০ শাখা ও উপশাখায় এই বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন৷ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেহেরুন নাহার মুন্নি নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রসরতার কথা বলেন। একই সাথে এই সংগঠন এর রেজিষ্ট্রেশন এর ব্যাপারে সাহায্য করার আশ্বাস প্রদান করেন। এদিকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সুমাইয়া জিসান।
তিনি বলেন, গৃহকর্মী সুরক্ষা আইন অনেকে জানা ছিলোনা। এই আইনের মাধ্যমে গৃহকর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। গৃহকর্মীর অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রধান অন্তরায় হলো এই পেশাটিই আনুষ্ঠানিভাবে স্বীকৃত নয়। এমনকি ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি-২০১৫’ বাস্তবায়নে ধীরগতি। নেই কোনো আইনও। তাদের অধিকার রক্ষায় নীতিমালা সম্পর্কে প্র্রচারে কোনো উদ্যোগও নেই। তাই গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ইতিবাচক গল্প রয়েছে। ওগুলো প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করতে হবে। এতে গৃহকর্মীসহ গৃহকর্তারাও উৎসাহিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, গৃহকর্মীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না। অনেক সময় বিনা নোটিশে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মঘণ্টা ও বেতন কাঠামো নেই। এ অবস্থানের পরিবর্তনের জন্য সকলের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি সরকারকেও নীতিমালা বাস্তবায়নসহ গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন করতে হবে।
আভাসের নির্বাহী পরিচালক রহিমা সুলতানা কাজল বলেন, সংগঠন এর সকল গৃহকর্মীদের প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, অক্সফাম এর অর্থায়নে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর সহ অর্থায়নে আভাস বরিশাল সিটি করপোরেশনে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করা হয়।
Post Comment