গোয়েন্দাজালে নৈশভোটের কুশীলব বরিশালের তৎকালীন ডিসি-এসপিরা!
রাইসুল ইসলাম অভি ।।
ভোটের মাঠের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। কখনো কখনো এমন অভিযোগ যে তাঁরা পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোটের আগের রাতেই ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন! গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী সরকারদলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে দিতে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনই আলোচনার কেন্দ্রে। ওই সময় তাঁরা প্রার্থীদের কাছ থেকে ‘হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট’ কামিয়েছিলেন বলেও প্রচার রয়েছে।
বিগত নির্বাচনে তৎকালীন সরকারদলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের আলোচিত-সমালোচিত বরিশালের ওই ডিসি-এসপিরা আবারও আলোচনায়। এবার তাঁদের ফাইল ধরে টান দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের কর গোয়েন্দারা।এদের মধ্যে রয়েছে বরিশালের তৎকালীন ডিসি অজিয়র রহমান এবং এসপি সাইফুল ইসলাম। যদিও তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মোশাররফ হোসেন বর্তমানে অবসরে আছেন। নির্বাচন ফ্যাসিস্ট সরকারের মনপুত উঠিয়ে দিয়ে পুরস্কার সরুপ বিপিএম পদক পেয়েছিলেন এসপি সাইফুল ও পুলিশ কমিশনার মোশাররফ। আর বিভাগীয় সেরা ডিসি হয়েছিল অজিয়র রহমান।
রাতের ভোটের কারিগর বলে পরিচিত এসব ডিসি-এসপির বিপুল অঙ্কের অবৈধ আয়ের কর ফাঁকি অনুসন্ধানে সংস্থাটির আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট ব্যাপক আয়োজনে মাঠে নেমেছে।সারাদেশে তাদের তৈরি ১১৬ ডিসি-এসপির তালিকা এখন এ প্রতিবেদকের কাছে।
জানা গেছে, রাতের ভোটের সেই নির্বাচনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন সময়ের ৫৭ জন ডিসি ও পুলিশের ৫৯ জন এসপি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও ওই ডিসি-এসপিরা ঠিকই প্রশাসনে বহাল তবিয়তেই আছেন। আগের সরকার নির্বাচনের পর তাঁদের ভালো পদায়নও করেছিল। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তাঁদের অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তাঁদের আয়কর নথি যাচাই করে প্রকৃত সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘তাঁদের বিষয়ে জনগণের একটা চাপা ক্ষোভ ছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এই ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে। সরকারি এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনেক তথ্য আয়কর গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। তাঁরা এখন যাচাই-বাছাই করে কর ফাঁকিসংক্রান্ত বিষয় অনুসন্ধান করবেন।
কর ফাঁকি উদঘাটন হলে আয়কর আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে এনবিআর। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানাবে। আইন অনুযায়ী তখন দুদক তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’
জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে একটি জরিপ করেছিল জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই)। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের মাত্র ২২টি আসনে জয় নিশ্চিত ছিল। বাকি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল সংস্থাটি। এরপর গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও পুলিশের যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মনোনীত করে পতিত সরকার। যাচাই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল ব্যক্তি ও পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।
এর আগে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ বেশির ভাগ নিবন্ধিত দল। ২০১৮ সালে বহুল আলোচিত সংলাপে শেখ হাসিনার কাছ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটে অংশ নেয়। তবে ডিসি-এসপিদের কারণে ওই ভোট বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এ সকল ডিসি এসপিরা সরকারি কর্মকর্তা হলেও আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনতে দলীয় দানবে পরিনত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কোথাও সমস্যা মনে হলে দলীয় ব্যক্তিরা মুভ করতেন না করত পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটরা।আর এসবের লিড দিত বিতর্কিত এই কর্তারা।
দুই কর্মকর্তা এখন কোথায় :
নিশীভোটের মাস্টার মাইন্ড বরিশালের সাবেক ডিসি অজিয়র কে পুরষ্কৃিত করেছিলেন তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। বরিশাল সদর আসনের নির্বাচনে তাকে(জাহিদ ফারুক)জয়ী করে আনার পর ২০২১ পর্যন্ত ডিসি হিসেবে বরিশালে দাপট ভালই দেখিয়েছিলেন অজিয়র।পরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জায়গা পান অজিয়র।বর্তমানে আছেন যুগ্ম সচিব হিসেবে। কথিত আছে, জাহিদ ফারুকের পর মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা চালাতেন এই অজিয়র রহমান।
৫ আগষ্টের পরে এখনও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আছেন তিনি।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য এবং শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর সন্তান দাবীদার বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার সাইফুল বেশ দাপটের সহিত এসপি বরিশালের বৈতরণী পার করে আবারও দেড় বছরের মাথায় ডিআইজি পদ বাগিয়ে নিয়ে বরিশালেই কমিশনার হয়ে আসেন এবং ২০২৩ এ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সুক্ষ টেকনিক অবলম্বন করে শেখ পরিবারের সদস্য আবুল খায়ের আবদুল্লাহর মেয়র হবার পিছনে বড় ভুমিকা রাখেন।সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটির কমিশনার ছিলেন এই সাইফুল। বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি হিসেবে আছেন সাইফুল ইসলাম।
গোয়েন্দাজালে নৈশভোটের কুশীলব বরিশালের তৎকালীন ডিসি-এসপিরা!
রাইসুল ইসলাম অভি :
ভোটের মাঠের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে তাঁদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। কখনো কখনো এমন অভিযোগ যে তাঁরা পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোটের আগের রাতেই ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন! গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী সরকারদলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে দিতে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হয়। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনই আলোচনার কেন্দ্রে। ওই সময় তাঁরা প্রার্থীদের কাছ থেকে ‘হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট’ কামিয়েছিলেন বলেও প্রচার রয়েছে।
বিগত নির্বাচনে তৎকালীন সরকারদলীয় প্রার্থীদের জিতিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের আলোচিত-সমালোচিত বরিশালের ওই ডিসি-এসপিরা আবারও আলোচনায়। এবার তাঁদের ফাইল ধরে টান দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের কর গোয়েন্দারা।এদের মধ্যে রয়েছে বরিশালের তৎকালীন ডিসি অজিয়র রহমান এবং এসপি সাইফুল ইসলাম। যদিও তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মোশাররফ হোসেন বর্তমানে অবসরে আছেন। নির্বাচন ফ্যাসিস্ট সরকারের মনপুত উঠিয়ে দিয়ে পুরস্কার সরুপ বিপিএম পদক পেয়েছিলেন এসপি সাইফুল ও পুলিশ কমিশনার মোশাররফ। আর বিভাগীয় সেরা ডিসি হয়েছিল অজিয়র রহমান।
রাতের ভোটের কারিগর বলে পরিচিত এসব ডিসি-এসপির বিপুল অঙ্কের অবৈধ আয়ের কর ফাঁকি অনুসন্ধানে সংস্থাটির আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট ব্যাপক আয়োজনে মাঠে নেমেছে।সারাদেশে তাদের তৈরি ১১৬ ডিসি-এসপির তালিকা এখন এ প্রতিবেদকের কাছে।
জানা গেছে, রাতের ভোটের সেই নির্বাচনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তৎকালীন সময়ের ৫৭ জন ডিসি ও পুলিশের ৫৯ জন এসপি। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও ওই ডিসি-এসপিরা ঠিকই প্রশাসনে বহাল তবিয়তেই আছেন। আগের সরকার নির্বাচনের পর তাঁদের ভালো পদায়নও করেছিল। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তাঁদের অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
তাঁদের আয়কর নথি যাচাই করে প্রকৃত সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘তাঁদের বিষয়ে জনগণের একটা চাপা ক্ষোভ ছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এই ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে। সরকারি এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনেক তথ্য আয়কর গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। তাঁরা এখন যাচাই-বাছাই করে কর ফাঁকিসংক্রান্ত বিষয় অনুসন্ধান করবেন।
কর ফাঁকি উদঘাটন হলে আয়কর আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে এনবিআর। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জানাবে। আইন অনুযায়ী তখন দুদক তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’
জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে একটি জরিপ করেছিল জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই)। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের মাত্র ২২টি আসনে জয় নিশ্চিত ছিল। বাকি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের জয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল সংস্থাটি। এরপর গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও পুলিশের যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মনোনীত করে পতিত সরকার। যাচাই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল ব্যক্তি ও পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।
এর আগে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ বেশির ভাগ নিবন্ধিত দল। ২০১৮ সালে বহুল আলোচিত সংলাপে শেখ হাসিনার কাছ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটে অংশ নেয়। তবে ডিসি-এসপিদের কারণে ওই ভোট বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এ সকল ডিসি এসপিরা সরকারি কর্মকর্তা হলেও আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের বিজয়ী করে আনতে দলীয় দানবে পরিনত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কোথাও সমস্যা মনে হলে দলীয় ব্যক্তিরা মুভ করতেন না করত পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটরা।আর এসবের লিড দিত বিতর্কিত এই কর্তারা।
দুই কর্মকর্তা এখন কোথায় :
নিশীভোটের মাস্টার মাইন্ড বরিশালের সাবেক ডিসি অজিয়র কে পুরষ্কৃিত করেছিলেন তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। বরিশাল সদর আসনের নির্বাচনে তাকে(জাহিদ ফারুক)জয়ী করে আনার পর ২০২১ পর্যন্ত ডিসি হিসেবে বরিশালে দাপট ভালই দেখিয়েছিলেন অজিয়র।পরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জায়গা পান অজিয়র।বর্তমানে আছেন যুগ্ম সচিব হিসেবে। কথিত আছে, জাহিদ ফারুকের পর মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে বড় ক্ষমতা চালাতেন এই অজিয়র রহমান।
৫ আগষ্টের পরে এখনও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আছেন তিনি।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য এবং শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর সন্তান দাবীদার বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার সাইফুল বেশ দাপটের সহিত এসপি বরিশালের বৈতরণী পার করে আবারও দেড় বছরের মাথায় ডিআইজি পদ বাগিয়ে নিয়ে বরিশালেই কমিশনার হয়ে আসেন এবং ২০২৩ এ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সুক্ষ টেকনিক অবলম্বন করে শেখ পরিবারের সদস্য আবুল খায়ের আবদুল্লাহর মেয়র হবার পিছনে বড় ভুমিকা রাখেন।সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটির কমিশনার ছিলেন এই সাইফুল। বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরে ডিআইজি হিসেবে আছেন সাইফুল ইসলাম।
Post Comment