ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টায় শিক্ষক জহিরুল ও ছাত্রলীগের ৭ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
শ্লীলতাহানি-হত্যা চেষ্টা, জোরপূর্বক হল থেকে নামিয়ে দেয়া,মালামাল চুরির অভিযোগে বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলি ছাত্রী নিবাসের সহকারী হল সুপার জহিরুল ইসলাম ও ৭ ছাত্রলীগের নারী কর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বনমালী গাঙ্গুলি ছাত্রী নিবাসের এক ছাত্রী। মঙ্গলবার ৩ ডিসেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে সুমনা পারভীন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন।
যাহার মামলা নং ৩৪৩/২৪ বিজ্ঞ আদালতের বিচারক নুরুল আমিন বিষয়টি আমলে নিয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বরাত দিয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজান জানান, মামলার বাদী বিএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের একজন নিয়মিত ছাত্রী, তিনি বনমালী গাঙ্গুলি ছাত্রী নিবাসে বিগত ৫ বছর ধরে থাকছেন। মামলার ১ নং আসামি জহিরুল ইসলাম ঐ ছাত্রীকে তার সাথে একান্তে সময় কাটাতে বলে,এতে বাদী রাজি না হওয়ায় অপর আসামী ঐ ছাত্রী নিবাসের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা,সুবর্না,অনামিকা, লক্ষী,সুমাইয়া, সুরি,শান্তা,সহ অজ্ঞাত আরও ৫/৭ জন শিক্ষার্থী গত ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাদীর রুমে প্রবেশ করে ১ নং আসামির সাথে দেখা করতে বলে। পরে বাদী রাজি না হওয়ায় ২/৭ নং আসামিরা রুমের বাহিরে অবস্থান করে এবং আসামে জহিরুল ইসলাম রুমের দরজা বন্ধ করে অকথ্য ভাষার বাদীকে গালিগালাজ করে এক পর্যায়ে চুলের মুঠি ধরে খাটের উপর শোয়াইয়া ফেলে। এ সময় বাদীর ডাক চিৎকার দিলে বাদীর মুখ চেপে ধরে স্পর্শ কাতর স্থানে হাত দেয়। বাদী জোড়ে ডাক চিৎকার করলে সাক্ষীসহ অন্যান্য ছাত্রীসহ ছুটে আসলে ২ থেকে ৭ নং ছাত্রীরা রুমের দরজা খুলে শিক্ষক জহিরুল ইসলামকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর বাদী সুমনা পারভীন হোস্টেল থেকে বের না গত ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় ১ থেকে ৭ নং আসামীরা এসে রুমের দরজা ভেঙ্গ ভিতরে প্রবেশ করে সুমনাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে হত্যার উদ্দেশ্য তার গলা চেপে ধরে এক পর্যায় বাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে টেনে হিচরে হোস্টেল থেকে বের করে দেয় এবং তার মলামাল লুট করে নিয়ে যায়। এঘটনায় বাদী থানায় গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করারা পরামর্শ দেয়। এবং এঘটনায় বাদী ৩ ডিসেম্বর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় বাদী সুমনা পারভীন জানান, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তার হোস্টেলে থাকার অনুমতি রয়েছে। আসামী জহিরুল ইসলাম ও অন্যান্য আসামীরা তাকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক কাজ করতে বলতো। তিনি তা না শোনায় তার সাথে আজ এমন খারাপ আচরন করেছে আসামীরা। এগুলো সব অধ্যক্ষকে বলা হয়েছিল,তিনি কোন সুষ্ঠ বিচার করেন নি।তাই বিচার না পেয়ে তিনি আদালতের দারস্থ হয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী হল সুপার জহিরুল ইসলাম মুঠোফোন এ বলেন,মামলার কোন বিষয় আমার জানা নেই।আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ঢাহা মিথ্যা, ঐ ছাত্রীর বিরুদ্ধে পুরো হলের ছাত্রীরা একাট্টা, আর এ বিষয়ে হল সুপার ও কলেজের অধ্যক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেখানে সেনাবাহিনীর লোকেরা এসে বলেছে ছাত্রীকে নামিয়ে দিতে। এখানে আমার কিচ্ছু করার নেই
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, এখনও আদালত থেকে কোন মামলার কপি পাইনি। পেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে
Post Comment