Loading Now

ঝালকাঠিতে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ।।

ঝালকাঠিতে বিকৃত যৌনাচার, শারীরিক নির্যাতন ও দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ করে নিজের গায়ে আগুন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সুখি আক্তার (২৪)। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

‎পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ভান্ডারিয়া পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঝালকাঠি থেকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা চলার পর অর্থাভাবে সেখান থেকে ছাড়পত্র নিতে বাধ্য হন স্বজনরা। পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও নেয়া হলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা ব্যয় জোগাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তাকে বাবার বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার নৈয়ারি গ্রামে ফিরিয়ে আনা হয়। পুনরায় তাকে আবার বরিশালের শের-ই বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ‎সুখি স্থানীয় মজিদ হাওলাদারের মেয়ে। কয়েক বছর আগে ভান্ডারিয়ার মো. হাসানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

‎অগ্নিদগ্ধ সুখি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিত। অস্বাভাবিক ও অপমানজনক কাজ করতে বাধ্য করতো। রাজি না হলে মারধর করতো। অনেকবার বলেছি আমি এসব পারি না। সে বলতো, কাউকে বললে আমাকে মেরে ফেলবে। পরে জানতে পারি সে আরেকটা বিয়ে করেছে। এরপর থেকে আমার ওপর অত্যাচার আরও বেড়ে যায়। অপমান, নির্যাতন আর সহ্য করতে না পেরে আমি নিজের গায়ে আগুন ঢেলে দিই।

‎সুখির বোন মিতু আক্তার জানান, আপা আমাদের সাথে ফোনে কথা বলার সময় কাঁদত। বলত, ওকে অস্বাভাবিক কাজ করতে বাধ্য করা হয়। না মানলে মারধর করা হয়। আমরা ভেবেছিলাম সংসারের ঝগড়া কিন্তু বিষয়টা এতটা ভয়াবহ বুঝতে পারিনি। ‎

চাচি রেবা বেগম জানান, হাসপাতালে গিয়ে দেখি মুখ ছাড়া শরীরের প্রায় সব জায়গা পুড়ে গেছে। ডাক্তাররা বলেছেন ৯০ শতাংশ দগ্ধ। ওর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।

‎মা শামসুন্নাহার জানান, আমার মেয়েটা বাঁচতে চায়। কিন্তু টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমরা প্রশাসনের কাছে বিচার চাই আর মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বামী মো. হাসান জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সঠিক না। আমাদের মধ্যে পারিবারিক ঝামেলা ছিল কিন্তু আমি তাকে নির্যাতন করিনি এবং দ্বিতীয় বিয়েও করিনি।

‎এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি অগ্নিদগ্ধ সুখির চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের সহৃদয় মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED