Loading Now

“নগরীর জলাশয়ের দূরাবস্থা এবং সংরক্ষণে করণীয়” শীর্ষক আলোচনা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা” বরিশালের আয়োজনে “নগরীর জলাশয়ের দূরাবস্থা এবং সংরক্ষণে করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় বিডিএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রনজিৎ দত্ত।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল বারী,

বিশেষ ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং, পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেলার বরিশাল বিভাগের সমন্বয়ক লিঙ্কন বায়েন। আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন রান’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ রফিকুল আলম নির্বাহী। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন আনোয়ার জাহিদ, কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক (বীর প’তীক),অধ্যক্ষ মোঃ আঃ মোতালেব হাওলাদার, সুশান্ত ঘোষ, মোঃ তেদ্বহিদুল ইসলাম শাহাজাদা, স্বপন খন্দকার,

এডভোকেট সুভাষ চন্দ্র দাস, মোঃ আঃ রব, বিমল মুখার্জী, শুভংকর চক্রবর্তী, মোঃ খোরশেদ আলম, সুপি’য় দত্ত, রেহানা ইয়াসমীন, আনোয়ার জাহিদ, কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক (বীর প’তীক),অধ্যক্ষ মোঃ আঃ মোতালেব হাওলাদার
প্রমুখ।

সভায় জলাভূমি উচ্চ উপাদনশীল একটি বাস্ততন্ত্র। যা অর্ধেক জনসংখ্যার প্রধান খাদ্য উৎপাদনে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। ইহা
খাদ্য উৎপাদনশীলতার ২৪% নিয়ন্ত্রণ করে। বিশে^র আহরিত মাছের দুই-তৃতীয়াংশ আসে জলাভূমি থেকে। মোট কথা, জলাভূমি
প্রকৃতির স্পঞ্ছদ্ধ ও প্রকৃতির কিডনীদ্ধ হিসেবে কাজ করে। উন্মুক্ত আলোচনায় বরিশালের সুধীজনরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের
উদাসীনতা ও নির্লিপ্ততায় বরিশালের একের পর এক পুকুর, খাল, নদী দখল ও দূষনের কবলে পড়েছে। হারিয়ে যাচ্ছে
জীববৈচিত্র্য। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ অঞ্চলের জলাশয়-জলাভূমি রক্ষা করা অতীব জরুরী। সিটি কর্পোরেশন,
পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের উচিত জলাশয়গুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা। সেই সাথে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকেও যথাযথ কার্যকর করার তাগিদ দিয়েছেন। তাঁরা আরও বলেন, দেশে আইন আছে, বাস্তবায়ন নেই। যারা আইনের বাস্তবায়ন করবে তাদের নির্লিপ্ততার সুযোগে ভূমিদস্যুরা জলাশয় ও জলাভূমি দখলে নিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সার্বিক পরিবেশ। সৃষ্টি হচ্ছে বিপর্যয়। এখনই আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন না হলে আমাদের পরিবেশ সুরক্ষা
করা কঠিন হয়ে পড়বে। আলোচকরা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সাধারনকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার আহ্বান জানাবে পরিবেশ
অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অথচ উল্টোভাবে সাধারন জনতাকে এখন পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করতে হচ্ছেদ্ধ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অতিথিরা বলেন, ‘‘আমাদের জীবন প্রবাহের জন্যই জলাশয় ও জীববৈচিত্র্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে। জলাশয়-জলাভূমি ক্ষতিগ’স্থ হলে ইকোসিস্টেম ব্যাহত হয়। জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্য সরকার আমাদের নিয়োগ
দিয়েছেন। আমরা এ ব্যাপারে সচেতন আছি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা লক্ষে পেদ্বঁছতে চাই। বাংলার ভেনিস বরিশালের সেই
রূপসেদ্বন্দর্য এখন অনেকটাই ম্লান। এখানকার জলাশয়গুলোকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ শহরের সেদ্বন্দর্য ফিরিয়ে আনা
সম্ভব। কেউ দোষী প্রমানিত হলে আমরা অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারনে নানা রকম
বিপর্যয় শুরু হয়েছে। এর সাথে আমরা কিভাবে টিকে থাকতে পারি সে বিষয়ে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ’হন করা জরুরী হয়ে
পড়েছে’’।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED