Loading Now

পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাস চলাচল স্বাভাবিক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ।।

পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করার পর থেকে এই রুটে দূরপাল্লার অধিকাংশ বাস চলাচল বন্ধ রাখেন বাস মালিকরা। এতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন যাত্রীরা।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত থেকেই সেবা গ্রীনলাইন, হানিফ, সাকুরা, ডলফিন, শ্যামলী এন আর, লাবিবা পরিবহন, ইউনিক পরিবহনসহ টার্মিনালের অন্তুত ২০টি কাউন্টার বন্ধ ছিল।

পরে শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত সারে ৭টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বাস চলাচল সাভাবিক হয়। এ ছাড়া যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিডিউলের বাইরে আরও দুটি ঢাকাগামী লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতটি বাস কোম্পানিকে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করের মোবাইল কোর্ট। এরপর থেকেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক পক্ষ।

 

সীমিতসংখ্যক কয়েকটি বাস চলাচল করলেও তা যাত্রীর তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় দেখা দেয় তীব্র ভোগান্তি। ঢাকা যাওয়ার জন্য সরাসরি বাস না পেয়ে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে প্রথমে বরিশালে গিয়ে সেখান থেকে অন্য বাসে ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকে আবার নির্ভরশীল হন লঞ্চের ওপর।

ঢাকাগামী যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি আগেই সাকুরা পরিবহনের টিকিট কেটেছিলাম। আজ বিকেলে ঢাকা যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে আসলে তারা বলেন, “গাড়ি যাবে না”। পরে টিকিটের টাকা ফেরত দিয়ে দেন। কত কষ্ট করে পরিকল্পনা করেও ঢাকায় যেতে পারছি না।

ঢাকার আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটির বিবিএ শিক্ষার্থী হুরি জান্নাত মিম বলেন, আমি হানিফ পরিবহনে টিকিট কাটতে গেলে তারা প্রতিটি টিকিট ১২০০ টাকা চায়। তখন আমি প্রতিবাদ করতেই তারা বলেন, টিকিট আর্মি ও প্রশাসনের কাছে আছে, তাদের থেকে নিয়েন।

এই বিষয়ে অধিকাংশ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক কোনো মন্তব্য করতে না চাইলেও এনা পরিবহনের কাউন্টারম্যান মো. মুন্না বলেন, পটুয়াখালী থেকে যাত্রী নিয়ে গেলেও ঢাকা থেকে খালি বাস ফিরে আসতে হয়। এতে মালিকপক্ষ লোকসানে পড়ে, এজন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

ডলফিন পরিবহনের কাউন্টারম্যান মিরাজ বলেন, জরিমানা করার পর মালিকপক্ষ বাস বন্ধ রাখে। আমাদের কিছু করার নেই, যাত্রীদের আমরা ফেরত পাঠিয়েছি।

লাবিবা পরিবহনের কাউন্টারম্যান সাইদুর ইসলাম বলেন, আমরা মালিকদের নির্দেশে কাজ করি। যখন তারা গাড়ি চালাতে বলে, তখন চালাই। তারা গাড়ি চালাতে নিষেধ করেছে। তাই কাউন্টার বন্ধ রাখেছিলাম।

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার বলেন, আমরা তথ্য পাওয়ার মাত্রই জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে কথা বলছি। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বাস চলাচল সাভাবিক হয়েছে। এ ছাড়া আমরা যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করতে সিডিউলের বাইরে আরও দুটি ঢাকাগামী লঞ্চ যুক্ত করেছি।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED