Loading Now

পটুয়াখালী-৩ আসনে জোট প্রার্থী নুর বনাম বিএনপির বহিষ্কৃত মামুন

অনলাইন ডেক্স ।।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে রাজনীতির মাঠে তৈরি হয়েছে ভিন্নমাত্রার সমীকরণ। এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (ভিপি নুর)।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মো. হাসান মামুন এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা ও ভিন্নমত। এতে ভোটারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে কৌতূহল ও দ্বিধা।

বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা হাসান মামুন গলাচিপা-দশমিনা এলাকায় পরিচিত মুখ। স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকায় তার রয়েছে নিজস্ব অনুসারী ও সমর্থক গোষ্ঠী।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার বিষয়ে হাসান মামুন বলেন, আমি দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করেছি। এলাকার মানুষ আমাকে চায় সেটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এই আসনে উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, এই নির্বাচন কেবল ব্যক্তি নয়, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি প্রার্থী হয়েছি এবং মাঠে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। তিনি দাবি করেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা স্বচ্ছ রাজনীতি ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে।

গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে প্রার্থীদের নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই বলছেন, একই রাজনৈতিক ধারার একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোটের হিসাব কষতে হচ্ছে নতুন করে।

গলাচিপা পৌর এলাকার ব্যবসায়ী মো. সেলিম হাওলাদার বলেন, হাসান মামুন আমাদের এলাকার মানুষ, বহুদিন রাজনীতি করছেন। আবার ভিপি নুরের জাতীয় পরিচিতি আছে। কার দিকে ভোট যাবে এটা এখনও ঠিক করতে পারছি না।

দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের কৃষক আবু তাহের বলেন, আমরা দল দেখি না, কাজ দেখি। যিনি কৃষকের জন্য কথা বলবেন, সার-বীজ আর ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবেন, তাকেই ভোট দেব।

গলাচিপার চরকাজল ইউনিয়নের জেলে ইসমাইল মাঝি বলেন, নদীভাঙন আর মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় আমরা বিপদে আছি। আগে যারা এমপি ছিল, তারা আমাদের কথা শোনেনি। এবার নতুন কাউকে সুযোগ দিতে চাই।

দশমিনা মহিলা কলেজের এক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আমরা নিরাপদ চলাচল, শিক্ষা আর চাকরির সুযোগ চাই। প্রার্থী যেই হোক, নারীদের বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাই।

একজন গৃহিণী শাহানারা বেগম বলেন, নির্বাচনের সময় সবাই আসে, পরে আর দেখা যায় না। এবার এমন কাউকে চাই, যিনি নির্বাচনের পরও এলাকায় থাকবেন।

স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, বিএনপির সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় একই ধারার ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গলাচিপা বাজারের চা-স্টলের আড্ডায় বসা এক ভোটার বলেন, একদিকে জোট প্রার্থী, আরেকদিকে স্বতন্ত্র দুইজনই বিরোধী রাজনীতির। এই বিভাজন শেষ পর্যন্ত কাকে সুবিধা দেবে, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।

ভোটারদের ভাষ্যে স্পষ্ট। এবারের নির্বাচনে ব্যক্তি পরিচিতি, এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি কে কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন, সেটাই হয়ে উঠছে মূল বিচার্য।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাসান মামুনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জোট প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা থাকায় নির্বাচন চারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে গলাচিপা ও দশমিনার বিভিন্ন হাট-বাজার, গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগ শুরু হয়েছে। পোস্টার-ব্যানার ছাড়াই নানা কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা, যদিও ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে সংযম ও সতর্কতা।

সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচন এবার শুধু দ্বিমুখী নয়, চারমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিয়েছে যার ফলাফল নির্ধারণ করবে ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED