Loading Now

প্রতারকের খপ্পরে বরিশাল নগর বিএনপি!

নিজস্ব প্রতিবেদক:বিগত ১৫ বছর আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগী কর্মীরা পাবেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা ও খাদ্য সহায়তা। এজন্য করা হবে ফ্যামিলি কার্ড।বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির এমনটা মুঠোফোনে অবহিত করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক কে।শুনে তিনিও বেজায় খুশি। ঢাকায় অবস্থান করায় নগর বিএনপির সদস্য জাহিদুর রহমান রিপনকে নির্দেশ দিলেন সব ওয়ার্ডের সভাপতি / সম্পাদক কে বিষয়টি জানাতে এবং এই প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করতে। আহবায়কের নির্দেশ পেয়ে রিপনও প্রায় সব ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি সম্পাদক কে ফোনে বিষয়টি বললেন কিন্তু বিধি বাম! ওটা ছিল সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীর নামে কোন প্রতারকের নাম্বার।কর্মীদের সহায়তা করার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়াই ছিল ঐ ব্যক্তির টার্গেট। আর তার পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে খোদ মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক সহ বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের নেতারা।এ নিয়ে গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর দিনভর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছে আহবায়কের দায়িত্বশীলতা নিয়েও।
দলটির একাধিক সুত্র ও ভুক্তভোগী এক ওয়ার্ডের সদস্যসচিবের ভাষ্যমতে গত পরশুদিন অর্থাৎ ২৭ সেপ্টেম্বর আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের ফোনে একটি কল আসে।তিনি দলীয় ব্যক্তিদের সহায়তা করতে সরকারের বরাদ্দ এসেছে বলে জানান।কিন্তু ঐ ফোনকলটি কোনরূপ যাচাই-বাছাই না করেই আহবায়ক তার অধিন্যস্ত এক সদস্যকে ফোন করে সব ওয়ার্ডে যোগাযোগ করতে বলেন।আর সদস্য জাহিদুর রহমান রিপনও কোনরূপ যাচাই-বাছাই না করেই সব ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের ফোনে ঐ নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলেন। এতে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ঐ প্রতারকের নাম্বারে কল করলে ফোনে থাকা ঐ ব্যাক্তি নিজেকে বিসিসির প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির বলে দাবী করেন এবং আন্দোলনে আহত নেতাকর্মীদের সরকারের তরফ থেকে সহায়তা করা হবে বলে নিশ্চিত করেন।এতে প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে ৫ জন সদস্যের নাম চান।তখনই শুরু হয় আসল খেলা। অনেক ওয়ার্ডের নেতারা ঐ প্রতারকের নাম্বারে বলেন ভাই আমার কর্মী বেশি আমার লিষ্টটা আরও নাম দেয়া যাবে কিনা?তখন ঐ ব্যক্তি বলেন দেয়া যাবে তবে কিছু খরচ দিতে হবে। এরপরে নগরের ১৩ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সদস্য সচিব তারেক ঐ ব্যক্তির বিকাশ এ ২০ হাজার টাকা দেন।এরপরে ফোন বন্ধ করে দেয় ঐ প্রতারকটি।পরে ২৯ সেপ্টেম্বর ফোন বন্ধ পেয়ে একাধিক নেতারা বরিশাল সিটি করপোরেশনে গেলে জানতে পারেন পুরো বিষয়টি ভুয়া।
এ বিষয়টি জানতে পেরে সদস্য জাহিদুর রহমান রিপন আবার সবাইকে ফোন করে কোন টাকা না দিতে নির্দেশনা দেন।

এ প্রসঙ্গে এক ভুক্তভোগী ১৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য সচিব তারেক হাফিজ জানান,আহবায়কের উচিত ছিল বিষয়টি ভালোভাবে খোজ খবর নিয়ে আমাদের বলা কিন্তু তিনি তা করেন নি। এ ঘটনায় আমি ঐ প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

মহানগর বিএনপির নেতা জাহিদুর রহমান রিপন বলেন আহবায়ক বলেছে বিধায় সবাইকে ফোন করেছি।ফ্রড বিষয়টি জানতে পেরে আবার সবাইকে নিষেধ করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন আমি ঢাকায় কাজে ব্যস্ত ছিলাম।হঠাৎ ফোন আসলে আমি এক সদস্যর নাম্বার তাকে দিয়ে দেই।তারপরে কি থেকে কি হয়েছে তা জানিনা।এখন শুনছি ওটা একটা ফ্রড।এখানে আর কিইবা বলার আছে।তারপরও থানায় একটি জিডি হয়েছে। এখন পুলিশ খুজে বের করুক।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান,ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি। তবে ১৩ নং ওয়ার্ডের একজন একটি জিডি করেছে।এখন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED