প্রধান শিক্ষক আওয়ামী লীগের দোসর: অতিরিক্ত পিপি জাহাঙ্গীর
পটুয়াখালী প্রতিনিধি ।।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ইন্দ্রোকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান হচ্ছেন একজন আওয়ামী লীগের দোসর। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিয়োগ নিয়ে তিনি বিদ্যালয়টি আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পরিণত করেছেন। বিদ্যালয়ে তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ ও মাদক সেবনের আখড়ায় পরিণত করেছেন।
এখনও তিনি বহাল তবিয়তে থেকে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। বুধবার (৫ মার্চ) বিকাল ৪টায় বাউফল প্রেসক্লাবের বীর উত্তম সামসুল আলম তালুকদার মিলনায়তন হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন, পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি ও জেলা বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি ইন্দ্রোকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটিতে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি আবেদন করি।
পরে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি আমাকে বলেন, ভাই আপনার নাম তিন নম্বরে রেখে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এরপর আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খবর নিয়ে জানতে পারি আমার নাম বাদ দিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি পাঠিয়েছেন। এ নিয়ে আমি প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলি।
একপর্যায়ে তার সাথে আমার কিছু উত্তেজিত বাক্য বিনিময় হয়েছে। এ জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আমার একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছে।
এতে আমার ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে। ওই অডিও কথোপকথনটি ইন্দ্রোকুল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক আলতাফ হোসেনের সাথে হয়েছে। সেখানে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি নিয়ে কোনো কথোপকথন হয়নি।
হয়েছে তার কাছে আমার ভাইয়ের পাওনা টাকার বিষয়ে। ওই শিক্ষক ফারিস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাথে জড়িত থাকাকালীন সময় আমার ভাই ওই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির “জনবীমায়” ২ লাখ ৮১ হাজার ৫শ ২ টাকা মুনাফাসহ পাওনা রয়েছে।
ওই টাকা দেই দিবো বলে ঘুরাচ্ছিলেন। তাই আমি তাকে ফোন দিয়ে টাকা ফেরত চাই। এ নিয়ে তার সাথে আমার উচ্চবাচ্য হয়েছে ঠিকই। কিন্তু পরে আমি যখন অডিও রেকর্ডিংটি শুনলাম, সেখানে আমার বক্তব্য এডিট করে প্রচার করা হয়েছে।
ওই অডিও রেকর্ডিংয়ের সব কথা আমার নয়, আংশিক কথা আমার। তিনি আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা ও ভাবমূর্তি নষ্ট করতে অডিও রেকর্ডিংটি এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচার করেছেন।
আবার সংবাদ সম্মেলন করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে মানববন্ধন করিয়েছেন। যা প্রচার মাধ্যমে আসায় আমার মানহানি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষানবিস অ্যাডভোকেট মোঃ সুমন হাওলাদার, আবুবক্কর সিদ্দিকী।
Post Comment