Loading Now

ফুটপাতে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তোপের মুখে যুবদল নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে চাঁদা তুলতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতা। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য দোকানপ্রতি এককালীন ৩০ হাজার এবং দৈনিক তিনশ টাকা করে দাবি করেন এই দুই নেতা।

এ নিয়ে লঞ্চঘাটের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে যুবদল নেতাকে।

মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে নগরীর একতলা লঞ্চঘাট এলাকার এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। খবর পেয়ে বুধবার জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কথা বলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে।

ভুক্তভোগী ইফতার সামগ্রী ব্যবসায়ী শামীম সিকদার বলেন, আমি ৪০-৫০ বছর ধরে লঞ্চঘাটে এই ব্যবসা করে সংসার চালিয়ে আসছি। ইতোপূর্বে কেউ আমাদের কাছে চাঁদা নিতে আসেনি। হঠাৎ করে রোজা শুরুর পর বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে স্থানীয় মাকসুদ এবং সামছু আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে এখানে ব্যবসা করতে দিবেন না বলে হুঁশিয়ার করেন।

অপর ভুক্তভোগী বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রুবেল মল্লিক বলেন, আমি সরকারি জমিতে ব্যবসা করছি। সামছু এবং মাকসুদ এসে আমার কাছে এককালীন ৩০ হাজার টাকা এবং দৈনিক ৩শ টাকা দাবি করে।

রুবেল মল্লিক বলেন, আমি বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের কর্মী পরিচয় দিয়ে তাদের চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করি। তখন তারা বিএনপি এবং দলীয় নেতাদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহানগর বিএনপি এবং যুবদল নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

জানা গেছে, অভিযুক্ত সামছুল আলম মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি এবং মাকসুদুর রহমান মাকসুদ ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। তাদের বিরুদ্ধে শামীম সিকদার ও রুবেল মল্লিকের মতো ফুটপাতের অন্য ব্যবসায়ীরাও চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে মাকসুদুর রহমানের বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি সামছুল আলম বলেন, এখানে চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি। মূলত লঞ্চঘাটের যেখানে ঘটনা সেখানে আমাদের একটা বিলবোর্ড রয়েছে। লঞ্চ ঘাটের প্রবেশপথ আটকে রুবেল মল্লিক নামের এক যুবক দোকান দিয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৩ মার্চ রুবেলকে রাস্তার দখল ছেড়ে দিতে বলেছি। তখন সে নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম জনির লোক এবং নিজেও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য দাবি করে আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এজন্য আমি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে সিটি করপোরেশনে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। ওই দিনই উচ্ছেদ শাখার লোকেরা তাকে স্বেচ্ছায় চলে যেতে বলেন। মঙ্গলবার বিকালে উচ্ছেদ শাখার লোক পুনরায় ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করতে গেলে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হন। খবর পেয়ে মাকসুদ সেখানে যায়; কিন্তু আমি ছিলাম না। এখানে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে ভিডিওতে দেখা যায়, মাকসুদুর রহমান মাকসুদের সামনেই ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হন। এমনকি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টাও করেন তারা। একপর্যায় স্থানীয়রা তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে কেটে পড়েন ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক এই নেতা।

এ প্রসঙ্গে মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জাহান বলেন, ঘটনা শুনেছি। দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছি। মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি সামছুল আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযানে গেলে উৎসুক জনতার ভিড় দেখে ঘটনাস্থলে যান তিনি। তবে ভুক্তভোগীরা তাদের অভিযোগের ক্ষেত্রে অনড় রয়েছেন। তারা সামছুল আলম ও মাকসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রে জানিয়েছি। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত থাকলে কেন্দ্রে থেকে নিবে।

অপরদিকে মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেন, তিনি এসম বলেন এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। যুবদল এবং বিএনপি নেতা যে কাজটি করেছে আমরা মহানগর বিএনপি এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন ওয়ার্ড বিএনপিতে ছিল। প্রয়োজনে চাদাবাজদের ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার কথাও বলেন তিনি।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED