বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা
অনলাইন ডেক্স ।।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপ-পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার ঢাকায় মামলাটি করেন বলে সাংবাদিকদের জানান দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুদক আইনের ২৬(১) ধারায় সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দেওযা হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় একই আইনের ২৬(২) ধারায় ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত’ হয়েছে।
দুদক বলছে, কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে আসা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশালের সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগের ‘সত্যতা’ পাওয়া যায়।
এর ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য সাদিক আবদুল্লাহর নামে নোটিস জারির সিদ্ধান্ত হয়।
নোটিস পৌঁছে দিতে ২৬ অক্টোবর দুদকের একজন কনস্টেবল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের ঠিকানায় গিয়েও তাকে না পাওয়ায় একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার ঠিকানায় সম্পদ বিবরণী ফরমের মূল কপি বাড়ির দরজায় টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, ৪ নভেম্বর নোটিস জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি সাদিক আবদুল্লাহ। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে দেশের অনেক এলাকার মত বরিশালেও আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় সাদিক আবদুল্লাহর পৈতৃক বাড়িতেও ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়।



Post Comment