বরিশালের ৬টি আসনে ৩০ প্রার্থী, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়ে বরিশাল জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। বিভিন্ন সংসদীয় এলাকার ভোটারদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী বরিশালের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে তীব্র লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। তবে ৬টি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের ৬ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে বাকি ৩০ প্রার্থীকে। যদিও মনোনয়নপ্রাপ্ত বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ও সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রাজনীতির মাঠে শক্ত দল বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে কৌশলে এগোচ্ছে অন্য দলগুলো।
বিভাগীয় সদর দপ্তর, বরিশাল শহর ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ (সদর) আসন বরাবরের মতো এবারও আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। এ আসনে নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পঞ্চমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার। টানা ৩০ বছরের বেশি সময়কালে তিনি বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি, মহানগর সভাপতি, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম মহাসচিব ছাড়াও উপ-নির্বাচনসহ চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সরোয়ার মন্ত্রী, হুইপ এবং সিটি মেয়র পদেও নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির বরিশাল মহানগরের সব ইউনিটের নেতারা একাট্টা হয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।
মজিবর রহমান সরোয়ারের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে চরমোনাই পীরের ভাই ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম এ আসনে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। জোটে না থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরের আসন হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে।
যদিও মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ এর পাশাপাশি বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসন থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়াও ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৫০ জন ভোটারের এ আসনে বাসদ নেত্রী, বরিশালের সব পর্যায়ের শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দেওয়া ডা. মনীষা চক্রবর্তী প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ইতোপূর্বে সিটি ও জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বরিশালে ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। এর বাইরে থাকা জাতীয় পার্টিসহ বাকি তিন প্রার্থীকে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে তেমন সরব ভূমিকায় দেখা যায়নি।
এদিকে, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) এ আসনে চতুর্থবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত দলের নেতাকর্মীরা। আর এ আসনে বিএনপির প্রতিবন্ধীদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রাসেল সরদার মেহেদী বেশ শক্ত অবস্থান করে নিয়েছেন। যদিও আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘুদের হিসাব খসে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, আসনের ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে মূল ভোটযুদ্ধ হবে স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহানের।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে তৃতীয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)। এ আসনে সান্টু ইতোপূর্বে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ফুরফুরা মেজাজে থাকা এবারের হেভিওয়েট বিএনপির এ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে জামায়াতের প্রার্থী মাস্টার আবদুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন, বাসদের প্রার্থীসহ ৭ জনকে। যদিও ৩ লাখ ৮০ হাজার ৪৯৬ ভোটারের এ আসন থেকে এরই মধ্যে জাসদের আবুল কালাম আজাদ ও এনপিপির সাহেব আলী সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন। আসনটিতে প্রথমবার দলীয় প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দ্বিতীয়বার তাকে মনোনয়ন দেয় দল। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বরিশাল মহানগরের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের সমর্থনে ফুয়াদ বেশ ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছেন। তবে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৫ ভোটারের এ আসনে বিএনপি, এবি পার্টির পাশাপাশি জাতীয় পার্টিও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপু কারাগারে থাকলেও তার মেয়ে ও সহকর্মীরা প্রচার-প্রচারণার কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। ভোটাররা বলছেন, ৬ প্রার্থীর মধ্যে মূলত বিএনপির সঙ্গে ভোটের লড়াইটা হবে এবি পার্টি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসানকে প্রার্থী করেছে বিএনপি। যদিও এর আগে ২০০৮ সালে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ। এরপর আসনটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আওয়ামী লীগের হাতে, তবে বিএনপি আসনটিকে তাদের ঘাঁটি হিসেবেই দেখছে। ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে মূলত বিএনপির সঙ্গে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শক্ত অবস্থানে রয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। এছাড়া ৪ লাখ ১৭ হাজার ৫৪ ভোটারের এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব, চরমোনাই পীরের ছোট ভাই মুফতি সৈয়দ এছহাক আবুল খায়ের নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন অনেক আগে থেকেই।
অপরদিকে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে তৃতীয়বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান। ৩ লাখ ১০ হাজার ৪৯৭ ভোটারের এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মাহমুদুন্নবীসহ পাঁচজন প্রার্থীকে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
তথ্য সূত্র : বাংলা নিউজ,,,,,


Post Comment