বরিশালে জেঁকে বসেছে শীত, সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
পৌষ মাসের বাকি আর মাত্র এক দিন। অগ্রহায়নের শেষ ভাগে এসে বরিশালে ঝেঁকে বসেছে শীত। রাতে ইলিশেগুঁড়ির মতো বরিশালে ঝরছে কুয়াশা। এরই দাপট থাকছে দিনমানও। কুয়াশার চাঁদরে মুখ লুকিয়ে রাখছে সূর্য। সঙ্গে হালকা বাতাস। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা কম থাকলেও বাতাসের বেগ ছিল অনেক বেশি। বৃহস্পতিবার থেকে এই অবস্থা বরিশালে। শুধু এই জেলায়ই নয়, পৌষ মাস শুরু না হতেই পুরো দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। এর প্রভাব পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনেও। শীতে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না অনেকেই।
চলতি শীত মৌসুমে বৃহস্পতিবার সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস। এদিন সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ছিলো ১১ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ ছিলো ২২ দশমিক ৬ ডিগ্রী।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক রুবেল বলেন, যেহেতু সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রী। তাই রাতে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রীর নিচে নামতে পারে। সেক্ষেত্রে রাতে একটু শীত বেশী অনুভূত হতে পারে। সাধারনত তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রীর নিচে নামলে আমরা তাকে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বলে থাকি। এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ডিসেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২টি শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়বে দেশ। এরমধ্যে চারটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আর এ সময়ের শেষ দিকে শিলাবৃষ্টিসহ ঝড় হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, এই তিনমাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। এই সময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তর, উত্তরপশ্চিমাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা/ মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। তবে কখনও কখনও উত্তরাঞ্চল, উত্তর পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষার্ধ্বে দেশের কোথাও কোথাও এক থেকে দুই দিন শিলাবৃষ্টিসহ বজ্রঝড় হতে পারে।
এদিকে বাঘিয়া এলাকার সবজি বিক্রেতা সাব্বির হোসেন বলেন, তিনি ব্যাটারির চালিত ভ্যান চালিয়ে সবজি বিক্রি করে জীবীকা চালান। হঠাৎ শীতের প্রকোপ বাড়ায় অনেকেটা বিপাকে পরেছেন। তাই সবজি বিক্রি না করে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
মোতালেব আলী নামে আরেকজন শীতের কাপড় বিক্রেত বলেন, হঠাৎ শীত জেগে বসায় বেচা বিক্রি ভালো হয়েছে। কিন্তু শীতের কারনে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
পথচারি শামসুল আলম বলেন, হঠাৎ বৃহস্পতিবার বরিশালের আবহাওয়া পালটে গিয়ে শীত জেঁকে বসেছে। রাতে কুয়াশা পড়ছে। দিনেও এর দাপট থাকছে।
তিনি আরও বলেন, পৌষ শুরু হতে আর এক দিন বাকি। এখনই আবহাওয়ার এই অবস্থা। পূর্বাভাস শুনে মনে হচ্ছে, শীত এবার আঁটঘাঁট বেঁধেই নামবে। এতে খেটে খাওয়া মানুষের শীতে কষ্ট যেমন বাড়বে, তেমনি কমবে আয়ও।
Post Comment