বরিশালে দুর্গম ১৩ উপজেলা, ঝুঁকিপূর্ণ অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র
নিজস্ব প্রতিবেদন ।।
নদীবেষ্টিত বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলার মধ্যে ১৩টি দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সরকারি নথিতে দুই হাজার ৮শ ৩৮টি ভোট কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৩৪টি কেন্দ্র বিদ্যুৎ বিহীন। যদিও এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার বরিশাল মহানগরীর কাশিপুরের ১২ নং তিলক কলাডেমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায় পুরোদমে চলছে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ। দ্রুত সময়ে সকল কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপনে তড়িঘড়ি। নির্বাচন কমিশনের অমন উদ্যোগে খুশি ভোট গ্রহণকারীরাও।
ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো অপারেটর সাব্বির বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনানুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ছয়টি করে এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দুইটি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নারী ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা আকলিমা বেগম জানান, ‘তিনি যতগুলো ভোটে দায়িত্ব পালন করেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা এবারের নির্বাচনে। সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক নিরাপত্তা দিয়ে যেন সুষ্ঠুভাবে যেন ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে পারে।’
তথ্য বলছে, দেশের সবচে বেশি নদীবেষ্টিত বিভাগ বরিশাল। বিভাগে এমন বেশ কয়েকটি উপজেলা রয়েছে যা মূল শহর থেকে একদম বিচ্ছিন্ন। যাতায়াতে ভরসা নৌ পথ। আছে চরাঞ্চলসহ একেবারে দুর্গম উপজেলা। বিভাগে দুই হাজার ৮৩৮টি কেন্দ্রে হবে ভোটগ্রহণ।
বিভাগীয় প্রশাসনে তথ্যমতে, এসব কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশিই ঝুঁকিপূর্ণ। মাত্র ২৩৯টি কেন্দ্রে আগে থেকে আছে সিসি ক্যামেরা। আর বিদ্যুৎ নেই ৩৪টি কেন্দ্রে। আর বিভাগের ৪২ উপজেলার ১৩টিই দুর্গম। যার মধ্যে বরিশাল জেলাতেই অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রই ২১২টি। এখানে মোট কেন্দ্র ৮৩৩টি আর ঝুঁকিপূর্ণ ১৯৬ টি।
বরগুনা জেলায় মোট কেন্দ্র ৩১২টি, যার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৬৯টি। পটুয়াখালীর ৫১৩টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৮০টি আর ঝুঁকিপূর্ণ ১৩৫টি। দ্বীপজেলা ভোলায় ৫২৫টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৫৪টি আর অতি ঝূঁকিপূর্ন ৯৯টি। ঝালকাঠি জেলাতে ২৩৭ টি কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ন ৮৩ ও অতিঝূঁকিপূর্ন ৫০ ও পিরোজপুরের ৪১৮ কেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ ১৩৯ টি ও অতিঝূঁকিপূর্ণ ৫৬টি।
এছাড়া বিভাগের বেতাগী, পাথরঘাটা, বামনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া, দশমিনা, চরফ্যাশন, মনপুরা, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী ও কাউখালী উপজেলাকে দূর্গম উপজেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা নজরদারিতে আনতে হবে দূর্গম এলাকাগুলো।’
এ বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘ভৌগোলিক কারনে বরিশাল বিভাগকে ভাগ করা হয়েছে কয়েকটি নিরাপত্তা স্তরে। ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার উপকূলীয় আসনগুলোতে নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডের বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন হয়েছে সর্বত্র। দুর্গম আসনগুলোতে ব্যবহার হবে ড্রোন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বরাদ্দ এসেছে একটি বিশেষ হেলিকপ্টারও।’ নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন।



Post Comment