বরিশালে বেড়েছে ডাকাতি-চুরি-ছিনতাই;পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন!
গত ছমাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন সদর উপজেলায় পাঁচটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার কিংবা ডাকাতদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। গত এক সপ্তাহে বরিশাল সদর উপজেলার তিনটি ডাকাতির ঘটনায় এখন পুরো উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর ডাকাতির ঘটনায় রাত জেগে থাকছে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এসব ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও কোনোভাবেই অপরাধী চিহ্নিত করতে পারেনি থানা পুলিশ ও নগর গোয়েন্দা শাখার একাধিক সদস্য ডাকাত দলের খোঁজে নেমে কোন কুল-কিনারা করতে পারছে না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য জানিয়েছেন। গত এক মাসে বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়ন রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নে পৃথক তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছরের
শেষ দিকে চরবাড়িয়া ইউনিয়ন ও চরকাউয়া ইউনিয়নে দুটি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বরিশাল সদর উপজেলার দশটি ইউনিয়নে এখন ডাকাতির আতঙ্কে দিন পার করছে গ্রামবাসী। এসব ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ। চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একের পর এক এক ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।প্রতিটি ডাকাতির ঘটনা প্রায় একই রকম। এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করে জানা যায়, মুখোশ পরে অস্ত্রের মুখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা। রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোস্তাফিজ হাওলাদার বলেন, গত , সোমবার উত্তর কড়াপুর হানিফ সংকেতের বাড়ি ও তাদের পাশের বাড়ি ডাকাতি হওয়ার পর গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতে না ঘুমিয়ে কাটাচ্ছে ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তার
একদিন আগে রোববার রাতে চাঁদপুরা ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামে ডাকাতি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো ইসমাইল হোসেন বলেন, ডাকাতির ঘটনায় আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায় নি।
এদিকে রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নে পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন কড়াপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির। এ বিষয় বিমানবন্দর থানায় কাউকে শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারে নি।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, কড়াপুর ইউনিয়নে দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনাশ কাউকে আটক করা যায়নি।
অন্যদিকে কোতোয়ালি থানা এলাকায় ডাকাতির ঘটনা না ঘটলেও বেড়েছে চুরি, ছিনতাই। রোজার মধ্যে গভীর রাতে উঠতি বয়সী কিশোর রা আড্ডা দেয়।গভীর রাত হলে বিভিন্ন রিকশা থামিয়ে করে ছিনতাই। থানা পুলিশের টহল ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।বেলস পার্ক,বরিশাল কলেজের সামনে এবং শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেন ও নিউসার্কুলার রোডের মধ্যে এ সকল কিশোর সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেশি।এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার অলক কাম্তি বলেন,ডাকাতির কোন রেকর্ড নেই,কিছু চুরির খবর পাওয়া যায় তবে টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যে দলটি ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।



Post Comment