Loading Now

বরিশালে মাঝ বসন্তে শীতের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

বরিশালে ফাল্গুনের শেষে মাঝ বসন্তে এসে শীতের আবহাওয়া বিরাজ করছে। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের অনেক নিচে। মার্চে স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রীর স্থলে শুক্রবার সকালে তা প্রায় ৫ ডিগ্রী নিচে, ১৫.২ ডিগ্রী রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার শেষ রাতে বয়স্কদের বেশিরভাগই কাঁথায় শীত সামাল দিতে পারেননি। এমনকি দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাচ্ছে। মার্চে স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.২ ডিগ্রীর স্থলে শুক্রবার ৩০.১ ডিগ্রীতেই আটকে ছিল।

 

বিগত বর্ষা থেকেই বরিশালসহ সন্নিহিত এলাকায় আবহাওয়ার নানা বৈপরিত্য লক্ষণীয় ছিল। বর্ষায় বৃষ্টির আকাল শরৎ পেরিয়ে হেমন্তের মধ্যভাগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকার পরে গত অক্টোবরে ভারতের অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র প্রভাবে ব্যাপক বর্ষণ উঠতি আমনসহ আগাম রবি ফসলের ক্ষতি করে। অথচ মূল বর্ষা মৌসুম জুড়েই বরিশালসহ সন্নিহিত এলাকায় বৃষ্টিপাতের ঘাটতির পরে হেমন্তের অকাল প্রবল বর্ষণে ফসলের যথেষ্ট ক্ষতির পরে নভেম্বরে আবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের নিচে নেমে আসে।

 

এমনকি ডিসেম্বরেও বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের ৭০% কম। জানুয়ারিতেও পরিস্থিতি প্রায় একই থাকার পরে সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারিতে বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের ৯৫% কম। এমনকি আবহাওয়া বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি বুলেটিনে চলতি মার্চেও বরিশালসহ সারাদেশেই স্বাভাবিকের কম বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

ফলে মাঠে থাকা বোরোসহ বিভিন্ন রবি ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ১৮ লাখাধিক টন বোরো চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে আবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের অভাবে বাড়তি সেচের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আর এ অবস্থাতেই তাপমাত্রার ব্যাপক তারতম্যও অব্যাহত রয়েছে। বরিশালসহ সন্নিহিত এলাকা জুড়ে জলবায়ুর এ পরিবর্তন কৃষির সাথে জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

 

গত দু’মাসে নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বরিশালে শুধু সরকারি হাসপাতাল গুলোতেই ভর্তিকৃত সাড়ে ৩ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। গত জানুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো প্রায় ১১ হাজার।

 

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED