বরিশালে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় বরিশাল জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন রেজা খানকে ক্ষুন্তি দিয়ে কুপিয়েছে সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনোয়ার হোসেন জিপু। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম সহ চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হানা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে জিপুর বিরুদ্ধে। সে নগরীর কাউনিয়া মেইন রোড এলাকার মৃত শহিদ হোসেন তালুকদারের ছেলে। আহত মামুনও ওই একই এলাকার বাসিন্দা।
শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মামুন রেজা জানিয়েছেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন জিপু ঢাকায় অবস্থান করছিল। ৫ আগস্টের পর সে বরিশালে আসে। এরপর শুরু হয় তার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা।
মারাত্মক আহত মামুন জানায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা ১২টার দিকে কাউনিয়া মেইন রোড এলাকায় জিপুর সাথে দেখা হলে সে বড় অংকের টাকা চায় মামুনের কাছে। এর পূর্বেও একইভাবে টাকা দাবি করে আসছিল। তাকে বারবার বলেছি আমার সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে টাকা দেয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এক পর্যায়ে হুমকির সুরে বলে কাউনিয়ায় থাকতে হলে তাকে চাঁদা দিতে হবে।
এ নিয়ে তার সাথে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী হোটেল থেকে ক্ষুন্তি এনে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এমনকি চায়ের কেতলির গরম পানি তার শরীরে নিক্ষেপ করে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে।
মামুন রেজা আরো জানান, এর পূর্বে বেশ কয়েকবার টাকা চেয়েছিল জিপু। ওই সময় একইভাবে তাকে বুঝিয়ে শান্ত করে। কিন্তু এভাবে সরাসরি চাঁদা চাওয়ায় সে ক্ষুব্ধ হলে তার উপর হামলা চালায়। সে ইতিপূর্বে কাউনিয়া এলাকার বেশ কয়েকজনকে এভাবে চাঁদার জন্য মারধর করেছে। ওই সময় এলাকাবাসী তাকে আটকে গণধোলাই দেয়। এতেও তার ত্রাস বন্ধ করতে পারছে না।
নগরীর ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মতুর্জা আবেদীন বলেন, এর পূর্বে নগরীর রূপাতলী এলাকার ভোজনবিলাস হোটেলে গিয়ে খাওয়ার পর ক্যাশ কাউন্টার থেকে ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করে। এরপর হোটেল কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায় জিপু।
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন জিপুর বিরুদ্ধে নালিশ আসছে তার কাছে। এলাকায় একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জিপুর অত্যাচার থেকে সাধারন মানুষের রেহাই মিলছে না। এ জন্য পুলিশকে কঠোর ভূমিকা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে হামলাকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরপরও হামলাকারী যাতে আর কোন ধরনের অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে এ জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।
Post Comment