Loading Now

বরিশালে লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে কর্মস্থলমুখী যাত্রীর ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

ঈদ উল ফিতরের টানা ৭ দিনের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলমুখি জনস্রোত শুরু হয়েছে বরিশাল অঞ্চলের বাস ও নৌ টার্মিনালগুলোতে। তবে এবারই প্রথম ঈদের ভীড় সামাল দিতে সরকারি নৌ পরিবহন সংস্থা নিশ্চুপ। ফলে সরকারি সব নজরদারীর মধ্যেও ঈদের আগে এ অঞ্চলের ঘরমুখি ও ঈদ পরবর্তি কর্মস্থলমুখি প্রায় ১০ লাখ মানুষ সম্পূর্ণভাবেই বেসরকারি পরিবহন মালিক-কর্মচারীদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। সোমবার সকালে ঢাকা থেকে ৩টি বিশালাকৃতির যাত্রিবাহী নৌযান অন্তত ১৫ হাজার যাত্রী নিয়ে বরিশাল বন্দরের টার্মিনালে নোঙর করার পরে মঙ্গলবারও অনুরূপ আরো ২টি নৌযানে বিপুল সংখ্যক যাত্রি বরিশালে এসেছে। আরো ২টি নৌযান ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে ঝালকাঠী সহ ভাটির স্টেশনে চলে যায়।
সড়কপথেও ঈদের দিন ও পরের দিন সহ মঙ্গলবার পর্যন্ত দিন-রাত বিপুল সংখ্যক যাত্রি ঢাকা সহ উত্তরবঙ্গ থেকে বরিশালে এসেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’র ঈদ পরবর্তি একমাত্র বিশেষ ফ্লাইট পূর্ণলোড নিয়ে সোমবার বরিশাল সেক্টরে চলাচল করে।

অপরদিকে সোমবার রাতে বিশালাকৃতির ১০টি বেসরকারী নৌযান অন্তত ৫০ হাজার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাবার পরে মঙ্গলবারে একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সোমবার রাতে বরিশাল নদী বন্দরে অবস্থান নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করেন। বাড়তি ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রীবহন বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বিকেলে পটুয়াখালী নদী বন্দরও পরিদর্শন করে অতিরিক্ত যাত্রী বহন সহ বাড়তী ভাড়া আদায়ে সরকারের সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ’কে সতর্ক করে দেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত লঞ্চ যাত্রা দেখছি, এবারেও আপনারা দেখেছেন। আমার মনে হয়, স্মরণকালের সবচেয়ে কম দুর্ভোগের লঞ্চযাত্রা এবার হয়েছে। আমি বরিশাল নদী বন্দরে থাকা সব লঞ্চ ঘুরে দেখেছি। লঞ্চগুলোতে ভাড়ার সরকারি তালিকা টাঙানোর বিষয়টিও দেখেছি, পাশাপাশি ১০ পার্সেন্ট যে ভাড়া কমানোর কথা, সেই কমানো ভাড়ার চার্টটি আছে কিনা সেটিও দেখেছি। তবে সেই ১০ পার্সেন্ট এর থেকেও কম ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে। ১০ পার্সেন্ট এ আসে ৩৬৩ টাকা কিন্তু নেয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা। তিনি বলেন, যাত্রীদের মাইকিং করে সচেতন করা হয়েছে ভাড়ার বিষয়ে, কেউ যাতে বেশি ভাড়া না দেয় সে বিষয়ে তাদেরকে মাইকিং করে বলা হয়েছে। ঘাটের ব্যবস্থাপনা সবাই দেখছেন, এখানে অনাকাঙ্ক্ষিত লোকের উপস্থিতি এই ঈদ যাত্রায় আমরা দেখছি না। এখানে হকারমুক্ত করার চেষ্টা করছি আমরা, সেইসাথে নৌকা থেকে লঞ্চে ওঠার প্রবণতা নীরুৎসাহিত করার চেষ্টা আমরা করছি।

মঙ্গল ও বুধবার অফিস আদালত খোলা থাকলেও পরবর্তি ৩দিনের ছুটি কাটিয়ে আগামী শনিবার পর্যন্তই বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলমুখি মূল জনস্রোত অব্যাহত থাকবে।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED