বরিশাল বিআরটিসিতে সরোয়ারের থাবা!
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ছিলেন না কোন আন্দোলন সংগ্রামে এমনকি স্থানীয়ভাবে নেই কোন পদ পদবিও। তবে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট- পরিবর্তনের পর ঘুমন্ত বাঘ এখন সিংহে পরিণত হয়েছেন। নিজের ভাই ও অনুসারীদের নিয়ে নগরীর নতুল্লাবাত বাস টার্মিনালে শুরু করেছেন দখল বানিজ্য। বলছি বরিশালের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র, বরিশাল বিএনপির সাবেক মহানগর সভাপতি, বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ারের কথা। তিনি বিএনপির সরোয়ার এটাই যেন তার বড় পরিচয় এবং তার দল এখন ক্ষমতায় এমনটা ভেবে গত মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর তিনি তার কালো থাবার জাল বিছিয়েছেন বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে। সেখানে ম্যানেজারকে মুঠো ফোনে কল করে জাহিদ নামধারী এক আওয়ামী লীগের কর্মীকে বিআরটিসি বাস কাউন্টারের চাবি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে তার অনুসারী বিএনপির নেতা বাবলা ও জাহিদ গিয়ে এক প্রকার জোড় করে কাউন্টারের চাবি বুঝে নেন। তবে এক্ষেত্রে বিআরটিসি বরিশাল অফিসের ঘোর আপত্তি ছিল। বরিশাল বিআরটিসি অফিস সূত্রে জানায়, গত কয়েক দিন ধরে বিআরটিসির বাস কাউন্টারগুলো নিতে বরিশালের একাধিক বিএনপির নেতারা লবিং তদবির চালাচ্ছেন। ২৮ ও ২৯ নং ওয়ার্ডের বিএনপির ত্যাগি ও নির্যাতিত নেতাদের কাউন্টার বুঝিয়ে দিতে ডিপো ম্যানেজারকে অনুরোধ করেন। এক্ষেত্রে তারা সরকারের সকল শর্ত মানতেও রাজি হন। কিন্তু বিআরটিসির ম্যানেজার তাদেরকে জানান, এই বিষয় ঢাকা অফিস সিদ্ধান্ত দিবে। কিন্তু মহানগর বিএনপির নেতারা চলে আসার পরই বিআরটিসি ম্যানেজারকে মুঠো ফোনে কল করেন মজিবর রহমান সরোয়ার। জাহিদ নামে ওই আওয়ামী লীগ কর্মীকে কাউন্টার বুঝিয়ে দিতে বলেন। এবিষয়ে বিআরটিসি বরিশাল ডিপো ম্যানেজার মুঠো ফোনে দখিনের প্রতিবেদনকে জানান, আমার কাছে অনেকই এসেছিলেন আমি তাদেরকে ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করতে বলছি। মজিবর রহমান সরোয়ার ফোন দিয়েছেন কিনা এ প্রসঙ্গে কথা বললে তিনি এড়িয়ে যান। এ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারকে একাধিক বার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য মজিবর রহমান সরোয়ারের ভাই মোশারফ হোসেন গত ৭ আগস্ট থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় নতুল্লাবাত বাস টার্মিনাল দখলে নিয়েছেন। তিনি বিএনপির কোন পদ পদবিতে নেই। অন্য দিকে মজিবর রহমান সরোয়ার দীর্ঘ দুই যুগের মতো বিএনপির একছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। ছিলেন জেলার সভাপতি, মহানগরের সভাপতি, বিভাগীয় সাংগঠনিক থেকে যুগ্ম মহাসচিব। বর্তমানে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। ২০২১ সাল থেকে স্থানীয় (বরিশাল) বিএনপির রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়া হয় সরোয়ারকে। তার স্থানে অভিষিক্ত হন মনিরুজ্জামান ফারুক যিনি সরোয়ারের কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন।
Post Comment