বরিশাল মহিলা লীগের পাইপবাহিনীর প্রধান কহিনুর গ্রেপ্তার!
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন ও ছাত্র আন্দোলন প্রতিহতের মাস্টারমাইন্ড পাইপ বাহিনীর নেত্রী কহিনুর বেমগকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম শহরের ভাটিখানা এলাকার বাসা থেকে মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন পর প্রথমবারের মতো কোন নারী নেত্রীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ নেত্রী কহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি কার্যালয় পোড়ানোসহ অন্তত চারটি মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চার থানায় ডজনখানেক মামলা হয়েছে। বিএনপি নেতা এবং ভুক্তভোগীদের এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং আবুল খায়ের ওরফে খোকন সেরনিয়াবাতসহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বকে অভিযুক্ত করা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র মহিনুর বেগম যে মামলাটিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই মামলার বাদী বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। বিএনপির অফিস পোড়ানো এই মামলার ১ নং অভিযুক্ত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল আসর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক শামীম কারান্তরীণ। এর গত ২২ আগস্ট আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় হাজারখানেক নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলাটি করেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক।
কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মিজানুর রহমান জানান, বিএনপি অফিস পোড়ানো মামলায় কহিনুর বেগম নামধারী আসামি। মঙ্গলবার কাউনিয়া থানাধীন ভাটিখানা বাজার এলাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং পরবর্তীতে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা আছে। সেই মামলাগুলোতেও কহিনুর বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং মঙ্গলবারই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ নেত্রী কহিনুর বেগম আদালতে জামিন চেয়েছিলেন। কিন্তু বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন, পাঠিয়েছেন কারাগারে।’
কহিনুর বেগম ৫ আগষ্টের পরই নিজের ভোল পাল্টাতে থাকেন।বিগত সময়ে মেয়র খোকনের বেডরুমের লোক হলেও দাবী করতে থাকেন তিনি ফ্রেশম্যান।কিন্তু তার আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্মের ফিরিস্তি ভিডিও আকারে সংরক্ষিত আছে। এবার বগা ফান্দে পড়েছেন।
সম্পাদনা: রাইসুল ইসলাম অভি
Post Comment