বালুমহাল কান্ডে বিএনপির তদন্ত কমিটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দিহান নেতারা!
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশালে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বালুমহাল ইজারার দরপত্র দখল ও এক সেনাসদস্যকে অপহরণের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে দলটি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম মুহাম্মদ চৌধুরী আলাল শুক্রবার ২৯ মার্চ বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করেন। তিনি ইতিমধ্যেই প্রায় সকলের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন।এডভোকেট আলাল এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি বরিশালেই অবস্থান করছেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে কী পেলেন, তা জানতে চাইলে আলাল বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি মুখ খুলতে চাচ্ছেন না। তবে জড়িতদের পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই বল তিনি বলেন অচিরেই প্রতিবেদন দলের কাছে হস্তান্তর করবেন।এখন ঈদের বন্ধ চলছে।
অন্যদিকে তদন্ত কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মহানগর বিএনপির নেতারা। মহানগর বিএনপি’র সাবেক গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এক নেতা জানান, আলাল ভাইর পাশে দলের বহিস্কৃত কিছু নেতারা সেলফি তুলে ফেইসবুকে দিয়েছেন এটা কি তদন্তকালীন কার্যক্রমের মধ্যে প্রশ্ন আনে না?তাছাড়া একাধিক ব্যক্তির বক্তব্যে স্বেচ্ছাসেবক দল বরিশাল জেলার ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নিজামের নাম উঠে আসলেও এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নিজামের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও তার বিরুদ্ধে দল কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশ সকলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিজলা উপজেলার একটি বালুমহাল ইজারার দরপত্র দখল ও এক সেনাসদস্যকে অপহরণের হোতা ছিলেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনির দেওয়ান। নগরের একটি হোটেলে অবস্থান করে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা এ নিয়ে পরিকল্পনা করেন। এতে জড়িয়ে পড়েন অর্ধশত নেতা-কর্মী। ১২ কোটি টাকার এই টেন্ডারিংয়ে মহানগর ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক সহ আরও অনেকে জড়িত।কিন্তু তাঁদের মধ্যে মাত্র ১১ জনের পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করে বিএনপি।ঘটনাস্থল রিচমার্ট হোটেলে সিসি ক্যামেরা রয়েছে।ফলে অপরাধী সনাক্তকরণে এই সিসি ক্যামেরা হতে পারে প্রধান সাক্ষী।সেটা এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে ঐ হোটেল কর্তৃপক্ষকে চাওয়া হয়েছে কিনা? কিংবা সিসি ক্যামেরা ফুটেজ নস্ট করা হয়েছে কিনা তা নিয়েও সন্দিহান নেতাকর্মীরা।
এমন অবস্থায় বরিশালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কাকে কখন বহিষ্কার কিংবা পদ স্থগিত হয়, তা নিয়ে চিন্তিত নেতারা। নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের পদ স্থগিত হওয়া এক নেতা বলেন, তাঁরা শাস্তি পেলেও অদৃশ্য শক্তিতে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কসহ অনেকে পার পেয়ে যাচ্ছেন। ৫ আগস্টের পর সেচছাসেবক দলের পরিচয় দিয়ে তিনি টেন্ডারবাজি করছেন। কিন্তু এ ঘটনায় আরও অনেকে ভুগছেন। ভাবমূর্তির সংকট হয়েছে দলের।
এ নিয়ে কথা হলে বরিশাল নগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, ‘দল তাদের পদ স্থগিত করে সঠিক কাজ করেছে। যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করে, তারা দলে থাকতে পারবে না। তিন মাস নয়, তাঁদের পদ আজীবনের জন্য স্থগিত করা উচিত।’ এসব ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বরিশাল-৪ (হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাউদ্দিন ফরহাদ বলেন, ‘এই কাজ অন্যায়। তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে টেন্ডারবাজি ও অপহরণ করা হয়েছে। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ঘটনায় শীর্ষ পর্যায়ের কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও বিচার হওয়া উচিত।’
Post Comment