মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব দেশের বিমান খাতে, বাড়বে ভাড়া
অনলাইন ডেক্স ।।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় প্রায় স্থবির বিমান চলাচল, তার ওপর জ্বালানি মূল্যের ধাক্কা-পরিস্থিতি অনেক জটিল করে তুলেছে। বড় ধরনের লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো। খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি পুরো এভিয়েশন খাতের জন্য অশনি সংকেত।
এর মধ্যে মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে লিটারপ্রতি জেটফুয়েলের দাম বেড়েছে ১০৭ টাকা। এতে টালমাটাল হয়ে পড়েছে দেশের এভিয়েশন খাত। বুধবার এয়ারলাইন্সগুলো অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে একক যাত্রায় ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা ভাড়া বাড়িয়েছে। ভাড়া বাড়বে আন্তর্জাতিক রুটেও। বন্ধ হয়ে যেতে পারে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক একাধিক রুট।
এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির হার অস্বাভাবিক বেশি।
তিনি বলেন, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ এসেছে এবং প্রায় আগের দামে জ্বালানি সংগ্রহ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই মূল্যবৃদ্ধি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে মাত্র ১৬ দিনে জেট ফুয়েলের দাম দুই দফা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
বিইআরসি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্ল্যাটসের গড় দর, ডলার বিনিময় হার ও পরিবহণ ব্যয় বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ঝুঁকি এবং এশিয়ার বাজারে অস্থিরতার কারণে জেট ফুয়েলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এশিয়ায় জেট ফুয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৬৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক রুটে জেট ফুয়েলের নতুন নির্ধারিত মূল্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি।
বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কলকাতায় প্রতি লিটার ০.৬২ ডলার, মাস্কাটে ০.৬০৩ ডলার, দুবাইয়ে ০.৫৮৭ ডলার, জেদ্দায় ০.৫৮১ ডলার এবং দোহায় ০.৫৮৪ ডলার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে ব্যাংককে ১.০৯৮ ডলার, সিঙ্গাপুরে ০.৫৮৬ ডলার মূল্যে জেট ফুয়েল সরবরাহ করছে এয়ারলাইন্সগুলোকে, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।
এভিয়েশন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৫০ শতাংশই জ্বালানি খাতে ব্যয় হয়। জেট ফুয়েলের হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি অপারেশনাল খরচ বাড়িয়ে দেবে। এর প্রভাবে বুধবার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট ও সৈয়দপুর রুটে বাড়ানো হয়েছে ১২০০ টাকা। এছাড়া যশোর ও রাজশাহী রুটে ভাড়া বেড়েছে ১০০০ টাকা। রিটার্ন টিকিটের জন্য যাত্রীদের এর দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হবে। পাশাপাশি কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমানো বা বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্তও নিতে হতে পারে এয়ারলাইন্সগুলোকে।
এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন এক চাপের বাস্তবতা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি ব্যয় যেহেতু একটি এয়ারলাইন্সের পরিচালন খরচের বড় অংশ, তাই এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি পুরো শিল্পকে অস্থির করে তুলবে। খরচ ব্যবস্থাপনা এখন এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে যাত্রী ভাড়ার ওপর। জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্য এয়ারলাইন্স, যাত্রী এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর সমানভাবে চাপ সৃষ্টি করবে।
অপারেটররা বলছে, ফ্লাইটের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যাত্রী সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতির মুখে পড়বে। এ অবস্থায় সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এওএবি। সংগঠনটির মতে, বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ না হলে দেশের এভিয়েশন খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
তথ্য সূত্র : যুগান্তর,,,,,



Post Comment