মাথাবিহীন লাশটি বরিশালের গোপালের, মাথার খোঁজে নদীতে তল্লাশি!
পিরোজপুর প্রতিনিধি ।।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সন্ধ্যা নদীর পাড় থেকে উদ্ধার মাথাবিহীন লাশটি বরিশালের গোপাল চন্দ্র দাসের (৪০)। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে গোপালের স্বজনেরা এসে তাঁর লাশ শনাক্ত করেন।
তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর মাথার সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল সংলগ্ন সন্ধ্যা নদী ও আশপাশে তল্লাশি চালায়।
খুন হওয়া গোপাল চন্দ্র দাস বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গণপাড়া গ্রামের পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে। এ ঘটনায় সম্রাট ও মো. রাজু নামের সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পরে তাঁদের মধ্যে সম্রাটকে আটক করা হয়। তাঁরা তিনজন বন্ধু বলে গোপালের পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, গতকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মামুন মিয়ার ইটভাটার দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সন্ধ্যা নদীর পাড় থেকে মাথাবিহীন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ সুপার জানান, লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশের তদন্ত ব্যুরো (পিবিআই), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছ। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে একজনকে আটক করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও পুলিশ এ বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই তাঁর নাম প্রকাশ করেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র, সিসি ক্যামেরার ভিডিও সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে একটি সাদা রঙের মোটরসাইকেলে করে তিন ব্যক্তি নেছারাবাদের মামুন মিয়ার ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ৩টা ২৭ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবক দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ভাটার এক কর্মচারী নদীর পাড়ে গিয়ে মাথাবিহীন লাশটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেয়।



Post Comment