মুলাদীতে ভাবির মামলায় জিম্মি দেবরদের সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
প্রবাসী স্বামীর সকল অর্থ আত্মসাতের পর এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন ভাবি। দেবরদের ফাঁদে ফেলতে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি এবং মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন তিনি। বুধবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৃত ভাই কালাম হোসেন পিন্টুর স্ত্রী কাকলী বেগমের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন বরিশালের মুলাদী উপজেলার দরিচর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে মো. ইমাম হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে ইমাম হোসেন বলেন, ‘আমার মেঝে ভাই কামাল হোসেনকে জমি
বন্দক, গাছ ও গরু বিক্রি করে ২০১৫ সালো মালয়শিয়াতে পাঠাই। প্রবাসে গিয়ে
উপার্জনের সকল টাকা স্ত্রী কাকলী বেগমের কাছে পাঠান কামাল হোসেন। সেই
টাকা আমাদের সংসারে খরচ করেননি কাকলী। বরং আমাদের ছেড়ে বাবার বাড়ি ও
বরিশাল শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন তিনি।
ইমাম বলেন, ‘আমার ভাই কামাল হোসেন অসুস্থতার কারণে ৩ বছর পরে মালয়শিয়া
থেকে দেশে ফিরে তার স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এমনকি আমার বাবা তাকে আনতে গেলে সে বাবাবে বলেন, ‘আপনার ছেলেকে অনত্র বিবাহ দিন’। পরে আমার ভাই জানতে পারেন তার স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত। এনিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি হয়। একপর্যায় স্ত্রী-সন্তান ও টাকার চিন্তায় ২০২০ সালের ১৮ আগস্ট কামাল হোসেন স্ট্রোক করে মারা যান।
ইমাম হোসেন আরও বলেন, ‘আমার ভাই মারা যাওযার পর ২০২২ সালে বাবা তার
সম্পতি আমাদের ৫ ভাই ও এক বোনের দানপত্র দলিল করে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে কাকলী বেগম আমাদের সাথে যাদের বিরোধ রয়েছে তাদেরকে নিয়ে আমাদের মারধর ও মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ বিষয়ে ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেই।
এতে আরও ক্ষিপ্ত হন কাকলী। এমনকি ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি আমাদের বিরুদ্ধে
একটি ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি
বিচারাধীন থাকাবস্থায় কাকলী বেগম আমাদের ২ লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে
নিয়ে যায়। আমরা নিষেধ করলে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ৪
এপ্রিল আরেকটি মামলা দেয়। এ নিয়ে একাধিক সালিশ-মিমাংসা হলেও তা
মানছে না কাকলী। বরং আমাদের বিরুদ্ধে আবারও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ দেন
তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইমাম অভিযোগ করেন, ‘সম্প্রতি কাকলী তার স্বার্থ হাসিলের
জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে প্রভাবিত হয়ে বরিশাল উত্তর জেলা
বিএনপির ১ নম্বর নির্বাহী সদস্য আব্দুস সত্তার খান ও তার শ্যালক রুহুল আমিন
খানসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের হেয় প্রতিপন্ন করছেন। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা
প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন।
ইমাম দাবি করেন, জীবদ্দশায় অসুস্থ স্বামীকে অস্বীকার করলেও মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি
ভোগ দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। স্বামীর কোনো সম্পত্তি না থাকলেও জোড়পূর্বক
আমাদের সম্পত্তি বাগিয়ে নিতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা, থানা-পুলিশ, সেনা ক্যাম্পে
অভিযোগ দিয়েও ক্ষান্ত হননি। বরং এখন নতুন মিশনে নেমেছে। আওয়ামী
ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় দলীয় লোকজন দিয়ে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করেছে।
এখন আমাদে দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের জড়িয়ে প্রাপাগান্ডা ছড়িয়ে ফায়দা
হাসিলের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে আমারা যখন আদালতের মাধ্যমে ফয়সালার দিকে যাচ্ছিলাম, ঠিক
তখনই মুলাদী উপজেলা বিএনপির কতিপয় নেতাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাকলী
বেগম এখন আমাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় উত্তর জেলা বিএনপির ১ নম্বর সদস্য
আব্দুস সাত্তার খান ও তার শ্যালক রুহুল আমিন খানসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের
জড়িযে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে
চাই, আব্দুস সাত্তার খান বা তার পরিবারের কেউ আমাদের মামলা এমনকি
পারিবারিক বিষয় সম্পর্কে আদৌ অবগত নয়। তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি এবং হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ইমাম হোসেন ও তার পরিবার।
Post Comment