লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত বরিশাল নগরী
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে বরিশাল নগরী, নলছিটি ও ঝালকাঠি। এতে গরমের মধ্যে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদনও।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পিক আওয়ারে যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট, সেখানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে ৫০ মেগাওয়াট। একইভাবে অফপিক সময়ে ৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৪০ মেগাওয়াট। ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে রেশনিং পদ্ধতিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) বরিশাল অফিস সূত্রে জানা যায়, বরিশালের দুটি জোনে মোট ৩৮টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। চাঁদমারী-১ ও আমানতগঞ্জ-২—এ দুই জোনের আওতায় বরিশাল নগরী ছাড়াও ঝালকাঠি ও নলছিটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়।
নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম সুজন বলেন, মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সহনীয় ছিল। তবে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। এখন দিনে-রাতে ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তা শাহে আলম জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বরিশাল মহানগরী ও ঝালকাঠী জেলায় প্রায় ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার সাথে এ অঞ্চলের ৪২টি উপজেলার প্রায় কোটি মানুষের জন্য ডে-পীক আওয়ারে সাড়ে ৬শ মেগাওয়াট ও সান্ধ্য পিক আওয়ারে সাড়ে ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার ৩০-৩৫ ভাগ বিদ্যুৎ ঘাটতি পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। এমনকি শহরের চেয়ে পল্লি এলাকায় বাড়তি বিদ্যুৎ ঘাটতি শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের ব্যাবসা-বাণিজ্য সহ সার্বিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মনে করছেন ওয়াকিবাহাল মহল।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকো বরিশাল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ৩৮টি ফিডারে রোটেশন পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে এক এলাকায় বিদ্যুৎ থাকলে অন্য এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ওজোপাডিকো বরিশাল-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ঘাটতি না কমা পর্যন্ত এ পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন।



Post Comment