শীত আর গরমের প্রভাবে বরিশালে ঘরে ঘরে জ্বর…
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
গত কয়েক দিন ধরে দিনের বেলা তীব্র গরম ও রাতের বেলা হালকা ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রভাবে বরিশালের ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর-সর্দি ও কাশির রোগী। আক্রান্তরা প্রথমে এলাকার ফার্মেসিগুলো থেকে ওষুধ কিনে সেবন করলেও অনেকেই তাতে সুস্থ হচ্ছে না। ফলে এসব রোগী ছুটছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের চেম্বারে। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল (শেবাচিম) ও সদর (জেনারেল) হাসপাতালের বহির্বিভাগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে রোগীদের। এছাড়াও প্রাইভেটভাবে চিকিৎসকদের চেম্বারেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এসব রোগীদের। এতে সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা।
বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতাল ও শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন সকাল ১০টার আগেই টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় রোগী ও তাদের স্বজনদের। এর মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ৪০ শতাংশই জ্বর নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালসহ ১০ উপজেলায় প্রতিটি ঘরে গত এক সপ্তাহ থেকে ঠান্ডা জ্বর ও সর্দির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্তরা জ্বরের পাশাপাশি সর্দি, কাশি, মাথাব্যাথা, গলাব্যাথা অনুভব করছে। বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও এই জ্বর কমপক্ষে এক সপ্তাহ ভোগাচ্ছে। কেউ কেউ আবার একাধিকবার জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিত্সকদের মতে ঠান্ডা লাগা, পেটে সংক্রমণ, ফুসফুসে সংক্রমণ, রক্ত স্বল্পতা হলেও জ্বর হয়। ঋতু পরিবর্তন, ভাইরাল ইনফেকশন বা অন্য বড় রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কারো কারো জ্বর হয়। মানুষের শরীরের মধ্যে মেটাবলিজম চলাকালীন যে ক্রিয়া-বিক্রিয়া চলতে থাকে, তা থেকেই বাড়তে পারে শরীরের তাপমাত্রা। তবে জ্বর হলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঁপুনি, খিদের অভাব, ডিহাইড্রেশন, ডিপ্রেশন, মাথাব্যথা, অবসাদ, ঘুম ঘুম রেশ থাকে। অতিরিক্ত জ্বরে খিঁচুনিও হতে পারে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল (সদর) হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সকাল সকাল রোগী আসছে টিকিট কেটে বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য। অনেকেই মেডিসিন বিভাগের ডাক্তারের রুমের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। জেনারেল (সদর) হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসা নাজমা বেগম জানান, তার ১২ বছর বয়সের মেয়েকে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন তিনি। তার মেয়ের বেশ কয়েক দিন ধরেই ঠান্ডা জ্বর ও গলাব্যথা অনুভব করায় প্যারাসিটামল ও নাপা খাইয়েছেন কিন্তু মেয়ের জ্বর কমেনি, তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালে এসেছেন।
বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালের আবাসিক সার্জন মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, প্রতিদিন ঠান্ডা, জ্বরে আক্রান্ত প্রচুর রোগী আসছে। উপসর্গগুলো ডেঙ্গু হলেও সব জ্বর ডেঙ্গু নয়। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।



Post Comment