সবজিতে স্বস্তি, মুরগি ও চালের বাজার চড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
ঈদকে ঘিরে হঠাৎ বেড়ে গেছে মুরগির দাম। রমজান শুরুর কয়েক দিন পর বেড়ে যাওয়া মুরগির দাম কমলেও এখন আবারও উর্ধ্বমুখী। বেড়েছে চালের দামও। পেঁয়াজ-টমেটোসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যেই আছে। এদিকে শীত শুরুর কিছুদিন পর থেকেই স্বস্তির হাওয়া বইতে থাকে সবজির বাজারে। তবে গ্রীষ্মকালীন সবজির বাজারে থাকলেও দাম চড়া। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বরিশালের বাজারগুলোতে ব্রয়লার ও পাকিস্তানি জাতের মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শুক্রবার সকালে বরিশালের কয়েকটি বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকাল শেষ হওয়ায় শীতকালীন সবজিও শেষের দিকে। ফলে সবজির দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে নতুন যেসব সবজি এসেছে সেগুলোর দাম তুলনামূলক ভাবে বেশি।
বরিশালের কাঁচাবাজারে ঢেঁড়শ ১২০ টাকা১৪০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, পটল ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কচুর লতি ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, সাজনা ২০০ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ মান ভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতা কামাল বলেন, ‘নতুন কিছু সবজির দাম একটু বেশি। আমদানি কম থাকায় আর চাহিদা বেশি থাকায় নতুন সবজির দাম একটু বেশি হয়।’
চৌমাথা বাজারের আরেক ক্রেতা শহিদুল আলম বলেন, ‘আজ বাজারে বেগুনের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। এগুলোর দাম যারা সিন্ডিকেট করে বাড়িয়ে দেয়, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। একই ভাবে বেড়ে পাকিস্তানি মুরগির কেজি ৩০০-৩২০ টাকা হয়েছে। এক ডজন ডিম পাওয়া যাচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়।
বাজার রোডের একাধিক মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, ‘সপ্তাহখানেক ধরে বাজারে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ তুলনামূলক কম। এ কারণে দাম বেড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ঈদে মুরগির কিছুটা বাড়তি চাহিদা থাকে, সেটাও দাম বাড়ার একটি বড় কারণ।’
ব্যবসায়ী মো. রবিউল বলেন, ‘এখন অনেকে ঈদের জন্য আগে ভাগে মুরগি কিনছেন। আমাদের ধারণা- এসব কারণে দাম বেড়েছে।’
পোট রোড বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বেড়েছে। ঈদে মুরগির কিছুটা বাড়তি চাহিদা থাকায় দাম বাড়ার অন্যতম একটি কারণ।’
রোজায় অতি মুনাফা করতে মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মিনিকেট চালের দাম ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে। এতে খুচরা বাজারেও মূল্য বাড়ছে হু হু করে। পরিস্থিতি এমন- কেজিপ্রতি মিনিকেট চাল কিনতে ক্রেতার সর্বোচ্চ ৯০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তা।
অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। এসব বাজারে ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১১০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ১৭০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা , মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কই মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায়, পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকায়, রুপচাঁদা ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৬৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, খাসির মাংস কেজি প্রতি ১১৫০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
Post Comment