সবজির বাজারে স্বস্তি!
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে সব ধরনের সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম কমেছে। পাইকারিতে পানির দরে এসকব সবজি মিললেও খুচরা বিক্রেতারা যে যেভাবে পারছেন দাম হাকাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর পাইকারি, একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে ও ভ্রাম্যমান সবজি বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। নগরীর বহুমুখি সিটি মার্কেট পাইকারি বাজারের সবজি বিক্রেতা রিয়াজউদ্দিন বলেন, বাজারে সবজি পাইকারিতে অনেকটা পানির দরে বিক্রি হয়েছে বৃহস্পতিবার। অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল প্রায় দ্বিগুন সবজির আমদানি ছিলো। সব ধরনের সবজির মূল্য কেজিতে কমেছে কমপক্ষে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। শুধু সকালেই নয় দিনভর এসব সবজি কিনেছে নগরীসহ আশপাশের জেলা-উপজেলার পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা। মার্কেটের প্রতিটি আড়তে সবজি বিক্রি করতে ভীড় করেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেপারীরা। এবছরের সবনি¤œ সবজির বাজার গেছে গতকাল বৃহস্পতিবার বলে জানান রিয়াজউদ্দিন। বাছাইকৃত ফুলকপি পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে ১২/১৩ টাকা এবং হেচকা ৮/১০ টাকা, বাঁধাকপি যথাক্রমে ১২/১৩ টাকা ও ১০ টাকা, বেগুন ও চিচিঙ্গা ২০ টাকা ও ১৫ টাকা, শসা মানভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, মুলা পাইকারিতে ১২/১৩ টাকা ও ১০ টাকা, লাউ ১৫ টাকা, কাঁচামরিচ পাইকারিতে ৩৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া পাইকারিতে ১৮/২০ টাকা এবং পটল ১৫/১৭ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এসব ছাড়াও সব ধরনের সবজির দামই কমেছে। সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারের কয়েকজন আড়তদার বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে যেরকম সরবরাহ থাকে, এবারও তেমনই আছে। তবে গত দুদিন সরবরাহ ভালই বেড়েছে এবং দামও বেশ কম। পাইকারি বাজারের এমন চিত্র দেখা গেলেও একই সবজির মূল্যে খচরা বাজারে দেখা গেছে ভিন্নতা। দুই তিন ধরনের মূল্যে সবজি বিক্রি হয়েছে ক্রেতা পর্যায়ে। একেক এলাকায় ভ্রাম্যমান বিক্রেতাদের সবজি বিক্রি করতে দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন দরে। এছাড়া নগরীর স্থায়ী কাঁচাবাজারেও ভিন্ন ভিন্ন দরে সবজি বিক্রি হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা অধিক মূনাফায় সবজি বিক্রি করেছে আবার কেউ বিক্রি করেছে সাশ্রয়ী মূল্যে। দাম করে যারা সবজি কিনেছে তারা গতকাল পানির দরে সবজি কিনতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন ক্রেতা শামসুন্নাহার। তিনি বলেন, চৌমাথা বাজারে এসে ফুলকপি দর দেখেছেন ৩০ টাকা। সেই ফুলকপি বটতলা এলাকার ভ্রাম্যমান বিক্রেতার ভ্যান থেকে কিনেছেন ২০ টাকা দরে। বেশি নিলে এই ফুলকপি কিনতে পারতেন ১৫ টাকায়। সব ধরনের সবজির বাজার দরই ছিল গতকাল এমন। মূলত সরবরাহ বাড়ায় দাম কমার বিষয়টি ক্রেতারা ততটা জানেন না। এই জন্য সুযোগ গ্রহণ করে কিছু অসাধু বিক্রেতারা বলে মন্তব্য তার। তবে পূর্বের তুলনায় সবজির দাম অনেকটাই কমেছে। গতকাল এক রকমের পানির দামেই সবজি মিলেছে। তবে দামের ভিন্নতার কারনে এর পুরো সুফল পাচ্ছেনা নগরবাসী। কম দামে সবজি বিক্রি করা ভ্রাম্যমান খুচরা বিক্রেতা সাইদুল বলেন, সিটি মার্কেটে প্রচুর সবজি আসছে। সকালে বাছাইকৃত মালের দাম কিছুটা বেশি থাকে। ওই দামে যারা কেনে তাদের বিক্রিও বেশি। দুপুরে যারা হেচকা মাল কেনে তারা অনেক কম দামে সবজি কিনতে ও বিক্রি করতে পারে। এ কারনে দামের এই ভিন্নতা। এছাড়াও যাদের স্থায়ী দোকান তাদের খরচ বেশি। তবে সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার সবজির দর এবছরের সর্বনি¤œ ছিল বলে জানান সাইদুল। নগরবাসীর অভিযোগ, বাজার তদারকির অভাবেই খুচরা ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। তারা করছেন, পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের ব্যবধান কমিয়ে স্বচ্ছতা আনতে হবে।
গতকাল খুচরা বাজারে ফুলকপি ২০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা, বেগুন ও চিচিঙ্গা পাইকারিতে ২৫/৩০ টাকা, শসা ৩০/৩৫ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫/৪০ টাকা, মুলা পাইকারিতে ২০ টাকা, লাউ ২৫/৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া পাইকারিতে ২৫/৩০ টাকা এবং পটল ২৫/৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নগরীর ব্রাউনকম্পাউন্ড জামে মসজিদের সামনে মাইকিং করে গতকাল সবজি বিক্রি হয়েছে। এখানে দুই কেজি শালগম বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকায়। শিম এর কেজি বিক্রি হয়েছে ১৫ টাকা দরে। তবে দেশী ভালমানের শিমের কেজি ছিলো ৩০টাকা।
Post Comment