‘সবাই চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলুক, আমরাও সেটিই চাই’
স্পোর্টস ডেক্স ।।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল নিয়মিত খেললেও ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তাদের হয়ে ওঠে। ১৯৭৩ থেকে শুরু হয়ে ২০২২ পর্যন্ত ১২ বার অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে কেবল একবারই খেলার সুযোগ হয়েছে বাংলাদেশের। ২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলকে পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ।
২০২২-এর জুন থেকে শুরু করে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত নারী ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় সাত নম্বরে থেকে শেষ করে বাংলাদেশ। এখন তাই বাংলাদেশকে বাছাইপর্ব খেলে মূল পর্বের টিকিট কাটতে হবে। ৯ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া বাছাইপর্ব থেকে দুই দল উঠবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে। বাছাইপর্বকে তাই অনেক গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্যোতি। মিরপুরে আজ সংবাদমাধ্যমকে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘বাছাইপর্ব খেলতে যাচ্ছি মানেই আমাদের লক্ষ্য একটাই—বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া। গতবারও আমাদের বাছাইপর্ব খেলতে হয়েছে। এবারও সেই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। এবার আমাদের সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থাকলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হারায় তা সম্ভব হয়নি। বাছাইপর্বে যদি ভালো খেলতে পারি, তাহলে দল ও দেশের জন্যই ভালো হবে। সবাই চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলুক, আমরাও সেটিই চাই।’
বাছাইপর্বে বাংলাদেশকে খেলতে হবে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, থাইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ বছরের জানুয়ারিতে ওয়ানডে সিরিজ হারায় মূল পর্বে খেলার টিকিট কাটতে পারেনি জ্যোতির দল। প্রতিপক্ষ যে দলই হোক, জ্যোতির কণ্ঠে ফুটে উঠেছে আত্মবিশ্বাস। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা নিয়মিত খেলি এবং আগেও তাদের মাটিতে হারিয়েছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও তাদের মাঠে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। শুরুতে আমাদের ম্যাচ রয়েছে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। সেগুলোতে জিতলে ভালো একটা মোমেন্টাম পাব।’
১০ এপ্রিল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাছাইপর্ব শুরু করবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে। সকালে বাংলাদেশ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষেও। আর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এই দুই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলবে দিবারাত্রির ম্যাচ। বাছাইপর্ব সামনে রেখে বাংলাদেশ ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্যোতি। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি কৃত্রিম আলোতে অনুশীলন করতে, কারণ সেখানে দুটো ম্যাচ রাতে হবে। কোয়ালিফায়ারে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রত্যেক ক্রিকেটার মনোযোগী। ঈদের ছুটিতেও আমরা নিজেদের প্রস্তুত রেখেছি। পাকিস্তানে গিয়ে আরও কয়েকটি প্রস্তুতি সেশন ও একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলব। যা বাছাইপর্বের আগে আমাদের জন্য কাজে আসবে।’
লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এলসিসিএ) গ্রাউন্ড, গাদ্দাফি স্টেডিয়াম—লাহোরের এই দুই মাঠে হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সব ম্যাচ। পাকিস্তানের উইকেট ব্যাটিং-বান্ধব হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ব্যাটারদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করছেন জ্যোতি। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা জানি, পাকিস্তানের উইকেটে রান বেশি হয়। তাই আমাদের ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই ভালো করতে হবে। দল হিসেবে খেলতে পারলে এবং ব্যাটাররা দায়িত্ব নিয়ে খেললে ভালো কিছু সম্ভব।’
Post Comment