Loading Now

সবুর হত্যা মামলায় দুই আসামি আটক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী গ্রামে অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গিলাতলী গ্রামের যুবক সবুর (৪৭)কে হত্যার অভিযোগে এজাহারভুক্ত আসামী একই পরিবারের দুইভাই নাজমুল হাসান ইমরানকে সিলেট থেকে এবং আমান খানকে বরিশালের রূপাতলী থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারী রাতে গ্রেফতার করা হয়। নিহত সবুর এর মা রাহিমা বেগম (৬৬) বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এসময় তিনি ৪ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন কে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর কোতোয়ালি থানা পুলিশ গত সপ্তাহে নাছির খান নামে একজনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তদন্ত করে ৫ ফেব্রুয়ারী সিলেট থেকে ১ নম্বর আসামী নাজমুল এবং রূপাতলী থেকে ২ নম্বর আাসামী আমান খানকে গ্রেফতার করেছে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গৌতম। তিনি বলেন, এই মামলাটিকে আমার জটিল মনে হচ্ছে। চার্জশীট দেওয়ার আগে তাই অধিক তদন্ত প্রয়োজন।

 

এসময় গ্রেফতারকৃত নাজমুল নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, ঘটনার দিন আমরা দুই ভাই কেউই এলাকায় ছিলাম না। আমি সিলেটে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। সেখান থেকে আমাকে এবং রূপাতলীর ম্যাচে বসবাস করা কলেজে অধ্যায়নরত আমার ভাই আমানকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে। সবুর একজন পাগল। তাকে আমরা কেন মারতে যাবো।

জানাগেছে, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গিলাতলী গ্রাম থেকে সৈয়দ সবুর (৪৭) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। ওই সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন এসআই জয়দেব চন্দ্র। তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয় দাবি করে মৃত সবুর এর চাচাতো ভাই বরিশাল নগরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ শামসুদ্দোহা আবিদ দাবি করেন, সবুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বে থাকা এসআই জয়দেব চন্দ্র তখন সাংবাদিকদের বলছিলেন, ১১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে গিলাতলী গ্রামের একটি ব্রিক ফিল্ডের সামনে রাস্তার পাশে যাত্রী ছাউনিতে এক ব্যক্তি পড়ে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। সেখানে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। এসআই জয়দেব আরো বলেন, সবুর মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তার মারা যাওয়ার কারণ জানি না। কারণ জানার জন্য মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন এলে কারণ বলতে পারবো। এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখন পর্যন্ত হাতে পাওয়া যায়নি। সুরতহাল রিপোর্টে এটিকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মামলা যখন হয়েছে এজাহারভুক্ত আসামীদের গ্রেফতার করতেই হবে। সবাইকে গ্রেফতার করার পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্দেহ হলে পুনরায় তদন্ত করবে পুলিশ। আমরা প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে চার্জশিট তৈরী করবো।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED