Loading Now

৯০০ গোলের ইতিহাস মেসির, তবুও বিদায় মিয়ামির

স্পোর্টস ডেক্স ।।

ফুটবলের ইতিহাসে আরেকটি অনন্য মাইলফলক ছুঁলেন লিওনেল মেসি। নিজের ৯০০তম গোল করে নতুন ইতিহাস গড়লেও শেষ পর্যন্ত দলকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তার দল ইন্টার মিয়ামিকে।

বুধবার কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ন্যাশভিলে এসসির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে মিয়ামি। প্রথম লেগ গোলশূন্য থাকায় অ্যাওয়ে গোলের নিয়মে এগিয়ে থেকে পরবর্তী পর্বে উঠে যায় ন্যাশভিল। ফলে হতাশা নিয়েই টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয় মেসি-সুয়ারেজদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ছিলেন মেসি। আগের দুই ম্যাচে ৯০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়া না হলেও এই ম্যাচে সময় নষ্ট করেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচের ১০ মিনিটের মধ্যেই বক্সের ভেতরে বল পেয়ে বাঁ পায়ে কাট করে দারুণ শটে গোল করেন তিনি। এর মাধ্যমে পেশাদার ফুটবলে ৯০০ গোলের বিরল কীর্তি গড়ে ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখান তিনি।

এই তালিকায় মেসির আগে আছেন শুধুমাত্র ক্রিশ্চিয়ানো, যিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম এই মাইলফলক স্পর্শ করেন। বর্তমানে রোনালদোর গোল সংখ্যা ৯৬৫ এবং তিনি ১০০০ গোলের লক্ষ্য নিয়েই ক্যারিয়ার এগিয়ে নিচ্ছেন।

 

মেসির গোলের পর ম্যাচে এগিয়ে যায় মায়ামি; কিন্তু সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি দলটি। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ন্যাশভিলের ক্রিশ্চিয়ান এস্পিনোজা দুর্দান্ত এক শটে গোল করে সমতা ফেরান। গোলমুখে জটলার পর পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন নিজের দলকে।

শেষ মুহূর্তে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মিয়ামি; কিন্তু আর গোল আদায় করতে পারেনি তারা। ফলে সমতায় শেষ হয় ম্যাচ, আর অ্যাওয়ে গোলের নিয়মে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় তাদের।

 

ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাতে পারেননি মায়ামির কোচ হ্যাভিয়ের মাচেরানো। তিনি বলেন, এটি দলের জন্য অত্যন্ত কষ্টের রাত। তাদের লক্ষ্য ছিল পরবর্তী পর্বে ওঠা এবং ম্যাচে এগিয়েও ছিল তারা। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত মূল্য দিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়ার কিছু নেই। সবাই সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই বিদায়ের দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন কোচ।

অন্যদিকে প্রতিপক্ষ কোচ বি.জে. ক্যালাঘান ম্যাচ শেষে মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি বলেন, ৯০০ গোল করা অবিশ্বাস্য অর্জন এবং মেসিই সেরা।

পরিসংখ্যানের দিক থেকেও মেসির এই কীর্তি অনন্য। ১১৪২ ম্যাচে ৯০০ গোল করেছেন তিনি, যেখানে রোনালদোর লেগেছে ১২৩৬ ম্যাচ। ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন পেলে, যার গোল সংখ্যা ৭৬৫। বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে মেসি ও রোনালদোর পরেই আছেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি, যার গোল সংখ্যা প্রায় ৬৯০।

মেসির ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ গোল এসেছে এফসি বার্সেলোনায় খেলার সময়, যেখানে তিনি করেছেন ৬৭২ গোল। এরপর পিএসজির হয়ে ৩২ এবং ইন্টার মিয়ামির হয়ে ইতোমধ্যে ৮১ গোল করেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর্জেন্টিনার হয়ে তার গোল সংখ্যা ১১৫।

সবচেয়ে সফল বছর ছিল ২০১২ সাল, যখন ক্লাব ও দেশের হয়ে মিলিয়ে ৯১ গোল করেছিলেন মেসি- যা এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ গোলের বিশ্বরেকর্ড।

সাম্প্রতিক সময়েও তার দারুণ পারফরম্যান্স অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ মৌসুমে তিনি ২৯ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন টানা দ্বিতীয়বারের মতো।

সব মিলিয়ে, ইতিহাসের এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেও এই ম্যাচে মেসির আনন্দ ছিল অসম্পূর্ণ। ব্যক্তিগত অর্জনের রাতটি দলীয় ব্যর্থতায় ঢাকা পড়ে গেছে। তবুও তার এই ৯০০ গোলের কীর্তি ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED