Loading Now

৯ মাস ধরে বন্ধ খেয়া, জন দুর্ভোগ চরমে

ভোলা প্রতিনিধি ।।

ভোলা প্রতিনিধি ।।
ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মুজিবনগর ইউনিয়নের চর মনোহর গ্রাম। তেঁতুলিয়া নদী পার হয়ে ওই গ্রামে যেতে হয়। নদী পাড়ি দেওয়ার একমাত্র মাধ্যম হলো নৌকা, যাকে আমরা খেয়া বলি। ৯ মাস ধরে খেয়া বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই গ্রামে বসবাসরত অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ।

প্রতিদিনের যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে খেয়া চলাচল বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। হঠাৎ করে খেয়া চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তেঁতুলিয়া নদী দিয়ে চলাচলকারী খেয়াটি দুই পাড়ের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। প্রতিবছরের বাংলা সনের শুরুতে এই খেয়াটি সরকার যে কোনো ব্যক্তিকে ইজারা দিয়ে থাকে।

তারই ধারাবাহিকতায় মূল ভূখণ্ডে বাবুরহাটের কাচারীখাল থেকে চর মনোহর পর্যন্ত সেখানকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলামকে বাংলা ১৪৩২ সনে খেয়াঘাট ইজারা দেন চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

তার নামে খেয়াঘাটটি ইজারা দেওয়ার পর থেকে প্রভাবশালী জুয়েল, আছমান, জহির, আলমাছ, আমির, বজলু, রিয়েল, তানজিদ ও মাহিদুলরা নদী পারাপারের খেয়া বন্ধ করে দেয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

চর মনোহরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খেয়াটি ৯ মাস বন্ধ থাকার কারণে অন্য ঘাট দিয়ে নদী পার হতে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ—দুটোই বেশি খরচ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ইজারাদার জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৪৩২ সনের বৈশাখ থেকে চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে খেয়াঘাটটি ইজারা নিয়েছি। এতে আমার ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমি ঋণ নিয়ে এই ঘাট ইজারা নিয়েছি। এই খেয়ার আয় দিয়ে আমার সংসার চলত। ৯ মাস ধরে খেয়াটি বন্ধ থাকার কারণে আমি আর্থিকভাবে একেবারেই অচল হয়ে গেছি।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া ভোগান্তিতে রয়েছেন যাত্রীরা। এ বিষয়ে আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়। এখনো আমি কোনো সমাধান পাইনি।’

খেয়া বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এই ভোগান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

অভিযুক্তদের কাছ থেকে খেয়া বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, তাদের নোটিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED