Loading Now

অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার!

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কিছুদিন ধরে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন কোনো না কোনো পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে ভোক্তা।

এদিকে সব ধরনের সবজি ও মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে নৈরাজ্য কারণ হিসেবে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন ভোক্তারা।

ভোক্তাদের দাবি শীতকালের সবজিতে ছেয়ে গেছে বাজার। তবে কাঁচাবাজারে সবজির দাম এখনও কমেনি। বেশিরভাগ সবজি ৮০/১০০ টাকার নিচে কেনা যাচ্ছে না।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বরিশালের বাজারে ক্রেতা – বিক্রেতাদের সাথ আলাপকালে এমন তথ্য জানাগেছে।

ক্রেতারা জানান, বাজারে কোনো পণ্যেরই দাম কমার সুখবর নেই। পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও মাছের বাজার চড়া।

বাজার করতে আসা রফিক ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বাজার করে বাসায় নিয়ে গেলে পরিবারে মনোমালিন্য হয়। সংসারে চাহিদার সঙ্গে জোগান দিতে পারি না। তাই বাজারের চিত্র দেখাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এলাম। প্রতিদিন যেভাবে দাম বাড়ছে আমাদের মতো নিম্নমধ্যবিত্তরা জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাটাই দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে বাজারের লাগাম টানা যাবে না বলে মনে করে পুরান বাজারে বাজার করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আবুল বাসার।

তিনি বলেন, বাজার সিন্ডিকেটের কারণে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। দোকানিরা তাদের ইচ্ছেমতো পণ্যের দাম বাড়িয়ে অতি মুনাফা করছে। এই সব অসাধু ব্যবসায়ী বিরুদ্ধে সরকারের মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অন্তর্বর্তী সরকারের সব সফলতা বিফলে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে শুক্রবার বরিশালের বাজারে কাঁচা মরিচ ১২০/ ১০০ টাকা, শীতকালীন সবজি শিম ১০০/৮০ টাকা এবং নতুন আলু ৯০/ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বরিশালপর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সবজি কচুরমুখী ৮০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, পটল ৬০/৭০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকায়, প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শসা ৬০ টাকা। বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজি ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, বাঁধা কপি ছোট সাইজের ৫০ টাকা পিস, পাকা টমেটো প্রকারভেদে ১৫০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আগের দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগির। ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস কেজি প্রতি ১১৫০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা , মৃগেল ৩২০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED