বরিশাল শ্মশান রক্ষা কমিটির সভায় হট্টগোল
নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল নগরীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের আদি শ্মশান রক্ষা কমিটি দখলের অভিযোগ উঠেছে। নতুন কমিটি গঠনের জন্য শুক্রবার বিকালে শ্মশান অভ্যন্তরের মন্দিরে সভা হয়। সেখানে তুমুল হট্টগোলের মধ্যে অসীম মুরালী দাসকে সভাপতি ও বিজয় ভক্তকে সম্পাদক করে নতুন কমিটি দেয়া হয়। এনিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সভাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ঘোষিত কমিটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়নি। কিছু সংখ্যক যুবক হট্টগোল করে কমিটি দখল হয়েছে। কবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কেউ যদি আদি শ্মশান রক্ষা কমিটির নেতা দাবী করে তাহলে তা হবে বেআইনী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৫ আগষ্টের পর সুবিধাবাদী একটি চক্র অনেকটা চর দখলের মতো কমিটি বাগিয়ে নিয়েছে। তাদের শক্তির যোগান দিতে বিপুল সংখ্যক বাহিরাগত যুবক শ্মশান অভ্যন্তরে মন্দিরে উপস্থিত করা হয়। কোন ধরনের আলোচনার সুযোগ না দিয়েই একতরফাভাবে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের নাম ঘোষণা দেয় একটি পক্ষ। বহিরাগতরা নতুন কমিটির পক্ষে ডাক চিৎকার করে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে কথা বলার সুযোগ দেয়নি।
মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক গোপাল সাহা বলেন, আদি শ্মশান রক্ষা কমিটি দীর্ঘদিন নিস্ক্রীয়। এ মাসের শেষ দিকে ঐতিহ্যবাহি দিপাবলী উৎসব ও কালীপূজা হবে। এ দুটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে ৩ মাসের জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে শুক্রবার বিকালে সভা ডাকা হয়েছিলো। নগরীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের গণম্যান্য সকলকে এতে আমন্ত্রন করানো হয়। অজ্ঞাত কারনে শ্মশান অভ্যন্তরে সহস্রাধিক লোকের উপস্থিতি দেখতে পান। একটি পক্ষ কোন প্রকার কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা দেন। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত গণমান্যরা আপত্তি জানালে বহিরাগতরা হট্টগোল করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে নিয়ে যায়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ সেনাবাহিনী ডেকেন আনেন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে না আসলে সকলে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
তবে নবাগত সভাপতি মুরালী দাস সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে কমিটি গঠন হয়েছে। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদসহ গণ্যমান্য সকলে উপস্থিত ছিলেন। মন্দিরের বাহিরে সহস্রাধিক লোকের উপস্থিতি সম্পর্কে মুরালী বলেন, স্থানীয় লোকজন উৎসাহী হয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। অন্য ধর্মের কেউ ছিলো কিনা তা জানা নেই।
Post Comment