কলাপাড়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মহিষের লড়াই স্থগিত, হতাশ দর্শকেরা
কলাপাড়া প্রতিবেদক ॥
ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে আয়োজন করা হয়েছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মহিষের লড়াই। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই আয়োজন শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাজারো দর্শক হতাশ হয়ে ফিরে যান। প্রাণিকল্যাণ আইনের বিধান অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কলাপাড়ায় মহিষের লড়াই বন্ধ করল প্রশাসন, ফিরল হাজারো দর্শক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশাল দেহের দুটি বলি মহিষ লড়াইয়ের জন্য গ্রামে হাজির করা হয়। মহিষ দুটির মালিক ছিলেন মজিবর ফকির ও সোহেল মিরা। এ লড়াইকে কেন্দ্র করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার উৎসুক মানুষ ভিড় জমায়। স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজনের সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছিল।
তবে প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ৬ ধারায় প্রাণীকে লড়াইয়ে উত্যক্ত বা প্ররোচনা দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকায় ‘এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী’র কলাপাড়া শাখার সদস্যরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনেন। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ বিল্লাহ এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লড়াই বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে হতাশ হয়ে ফিরে যান লড়াই দেখতে আসা দর্শনার্থীরা।
মহিষের লড়াই দেখতে আসা দর্শক সাইয়েদ মিয়া বলেন, ‘লড়াই দেখার জন্য সকালে চলে এসেছি। কিন্তু প্রশাসন এসে বন্ধ করে দিয়েছে।তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। ’
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনের আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। ’।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদিক বলেন, ‘প্রাণীর লড়াই প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার শামিল। আইন অনুযায়ী এ ধরনের আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভবিষ্যতে কেউ এমন আয়োজন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রাণী অধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাণীর প্রতি সহিংসতা রোধে এ ধরনের উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।



Post Comment