বরিশালে এলপিজি সংকটে নাভিশ্বাস, অতিরিক্ত দামে মিলছেনা গ্যাস
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
সারা দেশের সাথে বরিশালেও চলছে জালানি গ্যাস বা এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট। এ সুযোগে খুরচা ব্যবসায়ীরা গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। আজ (শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন গ্যাসের দোকানে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানগুলোতে সিলিন্ডার থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই খালি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই কম থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কোথাও দু’একটি সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত দুই দিন আগেও ১২ কেজির গ্যাস ছিলো ১২৫০ টাকা। বর্তমানে তা দাম বেড়ে ১৪’শ বা ১৫’শ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এনিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথা ব্যথাও নেই। বাধ্য হয়েই রান্নার জন্য মানুষকে চড়া মূল্য দিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় দ্বিগুণ দামেও গ্যাসের বোতল মিলছে না।
দোকানে এলপি গ্যাস পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে ঠিকই মিলছে গ্যাসের বোতল। অর্ডার দিলে রিকশায় করে গ্যাসের বোতল সাপ্লাই দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে দাম নেয়া হয় ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা।
নগরীর কাউনিয়া এলাকার সোহেল সরকার জানান, দুই সপ্তাহ আগেও ১২ কেজির এলপি গ্যাস ১২৫০ টাকায় কিনেছিলাম। কয়েকদিন ধরে সেই গ্যাস ২০০০ টাকাও মিলছে না। সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী আকবর জানান, দিন দিন গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। গ্যাসের কৃত্রিম সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমাদের ব্যবসারও করুণ অবস্থা।
এদিকে এলপি গ্যাসের খুচরা বিক্রেতারা জানান, তাদের কাছেও পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নেই। সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা ক্রেতাদের গ্যাস দিতে পারছেন না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তজার্তিক বাজারে গ্যাসের সংকট থাকায় প্রায় ১০টি গ্যাস কোম্পানী তাদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। তবে অচিরেই এ সংকট কেটে গেলে গ্যাসের দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এদিকে খুচরা বা পাইকারী গ্যাসের গ্রাহকরা গ্রাস কিনতে গিয়ে দাম বৃদ্ধির কারনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে, নগরীর বাসাবাড়িতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত থাকায় গ্যাস সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মাসের শুরুতেই সিলিন্ডার গ্যাস না পেয়ে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী।
দ্রুত এই সংকটের সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।



Post Comment