Loading Now

বরিশালে “নির্বাচনী সৌহার্দ্য সংলাপ” অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

নির্বাচনের প্রচারভিযানে সংযম, শালীনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপি ও জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। যেকোন ধরনের সহিংস আচরন ও উত্তেজনাপূর্ন বক্তব্য না দেওয়ার জন্য তার মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়।

১৯ জানুয়ারি সোমবার বরিশাল নগরে “নির্বাচনী সৌহার্দ্য সংলাপ” অনুষ্ঠিত হয়। মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম, বরিশাল-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই সংলাপটি ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় এবং যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর অর্থায়নে বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী সৌহার্দ সংলাপ’-এ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব অঙ্গীকার করেন। ডেমোক্রসি ইন্টারন্যাশনাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে অঙ্গীকারনামা দেন বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপি, মহানগর জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশের সমাজতািন্ত্রক দল- বাসদ, বরিশাল- ৫ (মহানগর-সদর) আসনে বিএনপির প্রাার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ও জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

‎আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সরাসরি মতবিনিময়, পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী ও পেশাজীবী শ্রেণির সমস্যা তুলে ধরা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা এবং সহিংসতা ও বৈরিতার বদলে যুক্তিভিত্তিক রাজনৈতিক আলোচনা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল মূল লক্ষ্য।

সভায় বক্তারা বলেন, আমরা অতীতের রাজনীতির চর্চা ভুলে যেতে চাই। নির্বাচনকেন্দ্রিক হামলা-মামলা, ভোট কেন্দ্র থেকে প্রতিপক্ষের পুলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার প্রচলন থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে আমাদের মধ্যে সৌহার্দ অব্যাহত থাকবে। আগামীর রাজনীতি হবে মেধার ও সৌহার্দের রাজনীতি। প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজ নিজ স্বকীয়তা বজায় রেখে নিজের ও দলের কর্মপন্থা ভোটারদের কাছে উপস্থাপন করবেন।
এসময় ভোটারদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয় নির্বাচিত হতে পারলে মান্তা ও হরিজন সম্প্রদায়ের বাসস্থানের নিশ্চয়তা, কুটির শিল্পের প্রসার, নদীর নব্য সংকট দুর এবং বিশেষ চাহিদার (প্রতিবন্ধী) নাগরিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেয়া হবে কি-না।
সভায় অংশ নেয়া জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট হেলাল ও বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে তার প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজন এর জবাবে বলেন, এসব দাবীগুলো মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে পড়ে। সকল রাজনৈতিক দল মৌলিক চাহিদা পুরনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে ‎সংলাপে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিদের আগে থেকে রেকর্ড করা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যেখানে প্রশ্নকারীরাও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং মঞ্চে তাদের রেকর্ড করা বক্তব্যের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। আবাসন প্রকল্পের অধিবাসী আবদুর রহমান পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক পরিবেশ উন্নয়নের পরিকল্পনা জানতে চান। নারী উদ্যোক্তা কবিতা হাওলাদার নারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব ঋণ, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। কাঁসাপিতল শিল্পের প্রতিনিধি অমিত বণিক ঐতিহ্যবাহী ও বিলুপ্তপ্রায় শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা জানতে চান। শ্রমিক প্রতিনিধি হৃদয় শেখ শ্রমিকদের মজুরি, কর্মপরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়নে প্রার্থীদের অবস্থান জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠক ফয়সাল রহমান প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সমাজের মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রার্থীদের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জানতে চান।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আধ্যাপক মাহবুব হোসাইন দুলাল, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ¦ নুরুল আমিন, জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা ও গণ অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাসেল। ‎এছাড়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উপপরিচালক দিপু হাফিজুর রহমান।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED