খাদ্যের নামে মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে ‘বিষ’
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
‘খাদ্য নিশ্চিত করি, সুস্থ সবল জীবন গড়ি’ প্রতিপাদ্যে সারাদেশের ন্যায় বরিশালেও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বরিশাল জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে সোমবার নগরীর কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের মিলনায়তনে ৯ম জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালন করা হয়। এ উপলক্ষে স্কুল পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশালের সহকারী পরিচালক সুমী রাণী মিত্র প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ফাস্ট ফুডের নামে মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে স্নায়ু বিষ। এসব খাবারের স্বাদ বাড়াতে টেস্টিং সল্টের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এটি পরিমাণে বেশি ও দীর্ঘদিন খেলে কিডনি বিকলসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়। এসময় তিনি সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে হলে সবাইকে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খেতে হবে। কেননা নিরাপদ খাদ্য শুধু স্বাস্থ্য নয়, শিক্ষায় মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের খাদ্য ভেজাল প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বরিশালের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কয়েকভাবে কাজ করে। প্রথমত সচেতনতা তৈরি, দ্বিতীয়ত মনিটরিং এবং সর্বশেষ কাজ হলো শাস্তি প্রদান। প্রথম দুটির মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন না হলে আমরা পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনি। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ পুনরায় খাবারে ভেজাল মেশায়। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে আহ্বান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে নিরাপদ খাদ্য সচেতনতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ ইনজামুল হক রানার সঞ্চালনায় কুইজ প্রতিযোগিতায় কালেক্টর স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



Post Comment