Loading Now

রাজপথ থেকে সংসদে লড়াকু ৩১ ছাত্রদল নেতা

অনলাইন ডেক্স ।।

দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা আর রাজপথের ত্যাগের অধ্যায় পেরিয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলেন ছাত্রদলের সাবেক একঝাঁক শীর্ষ নেতা। আগে সংসদ সদস্য ছিলেন এমন ছাত্রনেতা হাতেগোনা কয়েকজন। এবার নির্বাচনে বিজয়ী ৩০ জনের বেশি সাবেক ছাত্রদল নেতার বেশিরভাগই প্রথমবার সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত রাজপথ কাঁপানো এই নেতাদের বিজয়ে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেসরকারি ফলাফল ও স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, সাবেক এসব ছাত্রনেতা নিজ নিজ আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবারের সংসদে ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যও রয়েছেন, যারা বিএনপির আগের সরকারে মন্ত্রিপরিষদে ছিলেন। সব মিলিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও নতুন সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নিতে যাওয়া তারেক রহমান সরকার পরিচালনায় পাশে পাবেন সাবেক এসব ছাত্রনেতাকে।

এদিকে ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ পেয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও বেশ উৎফুল্ল। একই সঙ্গে তারা সতর্ক থাকার কথাও বলেছেন।

 

ভোলা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন। সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নয়ন বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ব্যবধানের দিক থেকে তাঁর ভোট তৃতীয়।

তিনি বলেন, আমি নতুন প্রার্থী ছিলাম। এলাকা অনেক বড়। ভোটের প্রচারের সময় সবার কাছে যেতে পারিনি, অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। তারা আমাকে না দেখেই যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন এবং আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, সেই আমানত আমাকে রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে দায়বদ্ধতাও বেড়ে গেছে।

ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচিত হাবিবুর রশিদ হাবিব ঢাকার সব আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের তৃণমূল রাজনীতি থেকে সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এলাকার প্রতিটি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করায় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা। এলাকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এ দায়িত্ব পালন করতে চাই। এমপি নয়, সেবক হিসেবে কাজ করব।

আগেও সংসদ সদস্য ছিলেন যারা

ঢাকা-২: আমান উল্লাহ আমান (ডাকসু ভিপি) ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল হক (জামায়াত) পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩ ভোট।

নরসিংদী-১: খায়রুল কবির খোকন (ডাকসু জিএস) ১ লাখ ৬১ হাজার ৪০৫ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ইব্রাহিম ভূঞা (জামায়াত) পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৩৪৯ ভোট।

গাজীপুর-৫: এ কে এম ফজলুল হক মিলন (সাবেক সভাপতি) ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. খায়রুল হাসান (জামায়াত) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৬১ ভোট।

নোয়াখালী-1: ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা, ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ ছায়েফ উল্যাহ (জামায়াত) পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩৬ ভোট।

নাটোর-২: রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়েছেন।

চাঁদপুর-১: এহছানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মকবুল আহমদ (জামায়াত) পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৬৮ ভোট।

লক্ষ্মীপুর-৩: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি (সাবেক সভাপতি) ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. রেজাউল করিম (জামায়াত) পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯ ভোট।

খাগড়াছড়ি: আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাবেক আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ ভোট পেয়েছেন। মো. ইয়াকুব আলী (জামায়াত) পেয়েছেন ৪১ হাজার ২৩০ ভোট।

প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন যারা

ঢাকা-১: খন্দকার আবু আশফাক, সাবেক সভাপতি, ঢাকা জেলা ছাত্রদল, ১ লাখ ৭২ হাজার ৪০২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. নজরুল ইসলাম (জামায়াত) পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৯১০ ভোট।

ঢাকা-৭: হামিদুর রহমান হামিদ, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. এনায়েত উল্লাহ (জামায়াত) পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট।

ঢাকা-৯: হাবিবুর রশিদ হাবিব, সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া (এনসিপি) পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট।

ঢাকা-১৮: এস এম জাহাঙ্গীর, সাবেক সহ-সভাপতি, ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরিফুল ইসলাম (এনসিপি) পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট।

মাদারীপুর-৩: আনিসুর রহমান খোকন, ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ৯৬ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৬৪৬ ভোট।

 

টাঙ্গাইল-৫: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাবেক সভাপতি, ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আহসান হাবিব মাসুদ (জামায়াত) পেয়েছেন ৮০ হাজার ২৮৩ ভোট।

মুন্সীগঞ্জ-৩: কামরুজ্জামান রতন, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মহিউদ্দিন (স্বতন্ত্র) পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২২৭ ভোট।

ফরিদপুর-৪: শহীদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সরোয়ার হোসাইন (জামায়াত) পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট।

শরীয়তপুর-১: নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, ছাত্রদলের সাবেক নেতা, ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা খলিলুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন) পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৪৩০ ভোট।

গোপালগঞ্জ-১: মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি, ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. কাবির মিয়া (গণঅধিকার পরিষদ) পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট।

গোপালগঞ্জ-৩: এস এম জিলানী, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাবেক সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল, ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট।

খুলনা-৩: রকিবুল ইসলাম বকুল, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মাহফুজুর রহমান (জামায়াত) পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট।

খুলনা-৪: আজিজুল বারী হেলাল, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম সাখাওয়াত (খেলাফত মজলিস) পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট।

বরিশাল-৪: রাজিব আহসান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল জব্বার (জামায়াত) পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।

ভোলা-৪: নুরুল ইসলাম নয়ন, সাবেক সহ-সভাপতি ও যুবদল সাধারণ সম্পাদক, ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩৭ ভোট।

পটুয়াখালী-৪: এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, ১ লাখ ২৪ হাজার ১৩ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৭০ হাজার ১২৭ ভোট।

সিরাজগঞ্জ-৫: আমিরুল ইসলাম খান আলীম, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী আলম (জামায়াত) পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৮ ভোট।

নেত্রকোনা-১: ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সংসদ, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম রব্বানী (খেলাফত মজলিস) পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৮৮ ভোট।

ময়মনসিংহ-৭: মাহবুবুর রহমান লিটন, সাবেক সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় সংসদ, ৯৮ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আসাদুজ্জামান সোহেল (জামায়াত) পেয়েছেন ৮২ হাজার ৯৬২ ভোট।

 

সুনামগঞ্জ-৪: অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সাবেক সহ-সভাপতি, কেন্দ্রীয় সংসদ, ১ লাখ ১৮ হাজার ২৩০ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ শামস উদ্দীন (জামায়াত) পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৩৫ ভোট।

ফেনী-১: রফিকুল আলম মজনু, সাবেক সভাপতি, ফেনী জেলা ছাত্রদল, ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এস এম কামাল উদ্দিন (জামায়াত) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট।

লক্ষ্মীপুর-১: শাহাদাত হোসেন সেলিম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক, ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহবুব আলম (এনসিপি) পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট।

পঞ্চগড়-২: ফরহাদ হোসেন আজাদ, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬২ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. কলিমুল্লাহ (জামায়াত) পেয়েছেন ৯২ হাজার ৪১০ ভোট।

তথ্য সূত্র : ঢাকা মেইল,,,

 

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED