Loading Now

সাবেক প্রতিমন্ত্রী-পুলিশ কমিশনার-ডিসিসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের সময় বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ারের কর্মীকে অপহরণ-নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউল আলম খান পলাশের আবেদনের প্রেক্ষাপটে মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জহির উদ্দিন এ আদেশ দিয়েছেন।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আব্দুর রহমান। এই মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বরিশাল ৫ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনের মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. রুহুল আমিন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান, উপ-কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া, বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ওসি মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই আব্দুল মালেক, এএসআই সহিদুল ইসলাম, এএসআই রাসেল মিয়া, এএসআই এরফান হোসেন মিদুল, এএসআই রফিকুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ মিলন বিশ্বাস, এএসআই মেহেদি হাসান মোল্লা এবং কনস্টেবল ফয়জুল।

বাদী যুবদল নেতা পলাশ অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার কোনো নেতাকর্মী নিয়ে প্রচারে যেতে পারেননি।

তখন বিএনপির প্রার্থীর সার্বক্ষণিক কার্যক্রমে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। সেই নির্বাচনের কদিন আগে ২৬ ডিসেম্বর দুপুরে সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন বাজারে লিফলেট বিতরণ করে বরিশাল নগরীতে সমাবেশে অংশ নিতে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ারসহ নেতাকর্মীরা রওনা দেন। তখন তিন দিক থেকে তাদের স্পিডবোটে ধাওয়া করা হয়।

একপর্যায়ে বিশ্বাসের হাট এলাকায় পৌঁছলে নদীর ভিতর থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে অপহরণ করে। পরে চোখ বেঁধে একটি অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে আটকে রাখে। এবং সেখানে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। এমনকি পরবর্তীতে বন্দর থানায় নিয়ে তাকে তিনটি মামলার আসামি করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে একই বছরের ১০ নভেম্বর বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি অভিযোগ করেছিলেন বাদী বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউল আলম খান পলাশ। তৎকালীন আদালত মামলাটিকে বন্দর থানা পুলিশের কাছে পাঠিয়ে এফআইআর করার নির্দেশ দেন।

বন্দর থানা পুলিশ মামলাটি তদন্তে গিয়ে দেখে ঘটনাস্থলটি বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানার আওতায় পড়েছে। পরবর্তীতে বন্দর থানা পুলিশ এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়। আদালত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। ‘স্বৈরশাসন’ বহাল থাকায় নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এতদিন মামলা করেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন যুবদল নেতা মশিউর।’

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED