Loading Now

ঝড়ে লন্ডভন্ড বাড়িঘর, ঈদের আগে অর্ধশত পরিবারের দুর্ভোগ

ভোলা প্রতিনিধি ।।

ভোলার চরফ‌্যাশন উপজেলায় মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সাথে অসংখ‌্য গাছপালাও উপড়ে পরেছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। প্রথমে হালকা বাতাস থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়।

ঝড়ের সাথে গুড়ি গুড়ি শিলা বৃষ্টিও হয়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং কাঁচা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করতে থাকে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের বেশিরভাগই কাঁচা ঘরে বসবাস করায় ঝড়ের আঘাত সহ্য করতে পারেনি। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ‌্যমতে, চরফ‌্যাশন উপজেলার ঢালচর, কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা, নজরুল নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অর্ধশত বাড়িঘর ঝরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ জানান, প্রতিদিনের মতো ওইদিন রাতে তার পরিবারের সদস‌্যদের নিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সেহেরির সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ থেকে ধেঁয়ে আসা তীব্র গতির বাতাসে তার বসত ঘরের চালা উড়ে যায়।

তিনি বলেন, আজ থেকে তিন দিন পরেই ঈদ। ঈদের আগেই আমাদের মাথাগোজার ঠাই হারিয়ে ফেলেছি। ঝড় আমাদের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। শুধু আমি না, আমার মত আরও বহু পরিবার বসত ঘর হারিয়ে পথে বসেছে।

চর মানিকা ইউনিয়ন চর কচ্চপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হাওলাদার বলেন, আমি একজন ব‌্যবসায়ী। বাতাসের প্রবল চাপে চর কচ্চপিয়া বাজারে আমার একটি দোকান ঘরের চালা উড়ে যায়।

ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও ঢালচর বন কর্মকর্তা মুইনুল জানান, হঠাৎ ঝড়ে প্রায় ঢালচরে ত্রিশটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্থের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED